22/01/2023

মৃগী রোগীর চিকিৎসা


মৃগী রোগ হলো এক ধরনের স্নায়বিক ব্যাধি, যা একজন ব্যক্তির বারবার খিঁচুনি ঘটায়। মস্তিষ্কে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপের কারণে এই খিঁচুনি ঘটে, যা মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে মেসেজিং সিস্টেমে একটি অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটায়। 


মৃগী রোগের কারণ কী?

নিম্নলিখিত কারণে মৃগী রোগ হতে পারেঃ-

♦ মৃগীর খিঁচুনি জেনেটিক হতে পারে—মৃগী রোগে আক্রান্ত প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় একজনের এই রোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে।


♦ মাথায় আঘাতের পর মস্তিষ্কের টিস্যুর দাগ (পোস্ট-ট্রমাটিক এপিলেপসি)


♦ প্রসবপূর্ব মাথায় আঘাত (সন্তানের জন্মের আগে মাথায় আঘাত)


♦ মাথায় আঘাত বা আঘাত, যেমন একটি যানবাহন দুর্ঘটনা


♦ ব্রেন স্ট্রোক (৩৫ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে এটি মৃগী রোগের প্রধান কারণ)


♦ ব্রেন টিউমার বা সিস্ট


♦ শিশুর জন্মের সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব


♦ বিকাশজনিত ব্যাধি বা স্নায়বিক রোগ জন্ম থেকেই উপস্থিত


♦ ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার রোগ


♦ সংক্রামক রোগ যেমন এইডস, মেনিনজাইটিস, যা মস্তিষ্কের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে।


উপসর্গ

খিঁচুনি বা মৃগী রোগের উপসর্গ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি লক্ষণ নিম্নরূপঃ-


♦ সহজ আংশিক খিঁচুনিঃ- 

চেতনার কোনো ক্ষতি নেই। এর নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো রয়েছে—


♦ মাথা ঘোরা।


♦ শরীরে শিহরণ সংবেদন।


♦ স্বাদ, গন্ধ এবং দৃষ্টিতে পরিবর্তন।


♦ জটিল আংশিক খিঁচুনি : এতে চেতনা বা সচেতনতা হারানো জড়িত। এর লক্ষণগুলো নিম্নরূপ—


♦ রোগীর কোনো সাড়া নেই।


♦ রোগী মহাশূন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে।


♦ হাততালি দেওয়া, হাত ঘষা ইত্যাদির মতো পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া করুন।


♦ সাধারণ খিঁচুনি : এটি মস্তিষ্কের সমস্ত অঞ্চলকে জড়িত করে। ছয় ধরনের সাধারণ খিঁচুনি আছে, এবং এর সবটারই বিভিন্ন উপসর্গ রয়েছে।


♦ ব্যক্তি তার পেশি নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম এবং পড়ে যায়।


♦ পেশি শক্ত হয়ে যায়।


♦ মুখ, ঘাড় এবং বাহুর পেশিতে বারবার কম্পন হয়।


♦ রোগীর হাত ও পায়ে সুড়সুড়ি দেওয়ার লক্ষণ থাকে।


♦ ব্যক্তি একই কাজ বারবার করতে থাকে, যেমন চোখের পলক ফেলা বা ঠোঁট ফাটানো।


♦ পেশির খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, পড়ে যাওয়া, মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো, দাঁত চেপে যাওয়া, অস্বাভাবিক আচরণ, অনিয়মিত শ্বাসপ্রশ্বাস।


মৃগী রোগের চিকিৎসা কী কী?

বেশির ভাগ ধরনের মৃগী রোগের জন্য বর্তমানে কোনো প্রতিকার নেই। রোগীদের মধ্যে মৃগী রোগের খিঁচুনি ভালোভাবে পরিচালিত হয়। খিঁচুনির ধরন এবং তীব্রতা, সাধারণ স্বাস্থ্য এবং রোগীর বয়সের মতো বিষয়গুলোর ওপর চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ভর করে।

-সংগৃহীত ।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...