06/04/2026

হামে আক্রান্ত শিশুর পরিচর্যা


হাম একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। হামের ভাইরাস দেহে প্রবেশের ১-২ সপ্তাহ পর অসুখ শুরু। তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কানের পেছনে, গলার পাশে, চুলের গোড়া ধরে র‌্যাশ দেখা যায়। জ্বর ওঠে ১০৪-১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত। র‌্যাশ প্রথম ২৪ ঘণ্টায় পিঠ, পেট, ঊরু ও দ্বিতীয়-তৃতীয় দিনে পায়ের পাতায় থাকে।


শিশুর হাম হয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে কিছু উপসর্গ দেখলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি জটিল হতে চলেছে। উপসর্গগুলো হলো শিশু বুকের দুধ বা পানি পান করতে পারছে না, যা খাচ্ছে সবই বমি করে দিচ্ছে ও খিঁচুনি হচ্ছে।


শিশুর চিকিৎসা ও পরিচর্যাঃ

শিশুকে বারবার বুকের দুধ ও স্বাভাবিক খাবার খেতে দিতে হবে। নিউমোনিয়া হলে খাওয়াতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক। কান পাকা, রক্ত আমাশয়, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া বা ক্রুপ দেখা দিলে সেসবের ব্যবস্থাপনা করতে হবে। ১০২ ফারেনহাইটের ওপর জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল দিতে হবে। জ্বর যদি তিন থেকে চার দিনের বেশি থাকে, তবে এর সঙ্গে অন্য কোনো সংক্রমণ আছে কি না, সেটা নির্ণয় করা জরুরি।


ভিটামিন এ-র অভাব বা ক্ষতিকর ওষুধে চোখের কনজাংকটিভাইটিস, কর্নিয়া বা রেটিনার ক্ষতি হতে পারে। চোখ থেকে পরিষ্কার পানি বের হলে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। কিন্তু চোখে পুঁজ দেখা গেলে জীবাণুমুক্ত তুলা অথবা পরিষ্কার কাপড় ফোটানো পানিতে চুবিয়ে চোখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। চোখে সাত দিনের জন্য প্রতিদিন তিনবার টেট্রাসাইক্লিন আই অয়েন্টমেন্ট দেওয়া যায়। চোখে জীবাণু প্রতিরোধকারী প্যাড ব্যবহার করতে হবে।


মুখে ঘায়ের কারণে শিশু যদি খেতে না পারে ও পানি পান করতে না পারে, তবে পরিষ্কার লবণ দ্রবণ পানিতে অন্তত দিনে চারবার মুখের ভেতর পরিষ্কার করে দিতে হবে। এক কাপ পরিমাণ ফোটানো পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে এই দ্রবণ তৈরি করা যায়। মুখের ঘা যদি প্রবল হয় বা দুর্গন্ধযুক্ত থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে।


হামে আক্রান্ত শিশুকে র‌্যাশ ওঠার সময় থেকে অন্তত চার দিন অন্য শিশুর সংস্পর্শে আসতে দেওয়া যাবে না। হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ডে রাখতে হবে। ভর্তিকৃত হাম শিশুরোগীর সংস্পর্শে আসা ছয় মাসের বেশি বয়সী সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া থাকতে হবে। ইতিমধ্যে টিকা পেয়েছে ৬ থেকে ৯ মাসের এমন শিশু যদি সংস্পর্শে আসে, তবে আরেক ডোজ হামের টিকা দিতে হবে।


যদি এক মাসের মধ্যে ভিটামিন-এ পায়, তাহলে দুই ডোজ ভিটামিন-এ দিতে হবে। প্রথম ডোজ তৎক্ষণাৎ, দ্বিতীয় ডোজ দ্বিতীয় দিনে দিতে হবে। শিশুর চোখে যদি এ ভিটামিনের অভাবজনিত লক্ষণ থাকে বা শিশু যদি মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগে,Ñতবে দু-চার সপ্তাহ পর তৃতীয় ডোজ দিতে হবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য ৫০ হাজার, ৬-১১ মাস বয়সীদের ১ লাখ, ১২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য ২ লাখ আইইউ দিতে হবে। পরিস্থিতি জটিল হলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

-সংগৃহীত ।

05/04/2026

যেসব অভ্যাসে ভালো ঘুম হয়




রাতে ভালো ঘুম  চাইলে প্রস্তুতি শুরু করতে হয় দিনের বেলাতে। কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে কম ক্লান্ত লাগতে পারে, শরীরে বাড়বে শক্তিও। অনেকেই সব সময়ই ক্লান্ত বোধ করেন। এটা খুব সাধারণ সমস্যা।

সময়মতো ঘুমাতে যেতে হবে, বিছানায় ফোন ব্যবহার করা যাবে না- এমন অনেক কথাই আমরা শুনে থাকি। এগুলো একদমই সঠিক। তবে ভালো ঘুম শুধু রাতের বিষয় নয়। দিনের অভ্যাসও এতে বড় ভূমিকা রাখে।

জেগে থাকা অবস্থাতে কিছু পরিবর্তন আনলেই উপকার পাওয়া যেতে পারে। ঘুমের সময় পরিবর্তন না করেও আপনাকে বেশি সতেজ রাখতে পারে-  এমন পাঁচটি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো এখানে।


আয়রনের মাত্রা ঠিক রাখাঃ

বিশ্বে প্রায় প্রতি তিনজনের একজনের শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকে। শিশু, কিশোরী, সন্তান ধারণের বয়সী নারী, গর্ভবতী, খেলোয়াড়, নিরামিষভোজী এবং নিয়মিত রক্তদাতাদের ঝুঁকি এইক্ষেত্রে বেশি।

আয়রন কম হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা, অস্থিরতা দেখা দেয়। এমনকি রাতে ঘুম ভেঙেও যেতে পারে।

ঘুমের পরিমাণ ঠিক করেও যদি ক্লান্তি না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। প্রয়োজনে রক্তে ফেরিটিন বা হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করতে হতে পারে।


খাবারের দিকে খেয়াল রাখাঃ

মাংস, মাছ ও ডিমের আয়রন সহজে শরীরে শোষিত হয়। ডাল ও সবুজ শাকেও আয়রন আছে। এর সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে উপকার বেশি হয়।


সবজি ও ফল বেশি খাওয়াঃ

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি ফল ও সবজি খান, তাদের ঘুম তুলনামূলক ভালো হয়। আর যারা বেশি ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় খান, তাদের ঘুম ভালো হয়না। বিশেষ করে ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ অনুসরণকারীদের ঘুম ভালো হয়। এতে থাকে বেশি সবজি, ফল, বাদাম, ডাল, শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার।

আবার যারা রাতে পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যায়। খাদ্য ও ঘুমের সম্পর্ক সব সময় একরকম না হলেও দুটো একে অন্যকে প্রভাবিত করে- এমন ধারণা আছে।

ক্লান্ত থাকলে আমরা বেশি জাঙ্ক ফুড খাই। আর এসব খাবার ঘুমের ধরণ বদলে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি চর্বি ও চিনি খেলে গভীর ঘুম কমে যায়। আবার স্বাস্থ্যকর খাবারে ফিরলে ঘুমও ভালো হয়। এমনটাই দেখা যায় বিবিসির একটি প্রতিবেদনে।  

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল ও সবজি খেলে নারীদের অনিদ্রা কমে। তাদের ঘুমের মানও কিছুটা উন্নত হয়। দ্রুত ঘুম আসে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন তেমন দেখা যায়নি। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। নিয়মিত সবুজ সবজি খেলে তারা বেশি সতেজ থাকে। ঘুমও ভালো হয়।


ব্যায়াম করাঃ

ব্যায়াম করলে ঘুম ভালো হয়- এমন প্রমাণ রয়েছে। এতে দ্রুত ঘুম আসে। ঘুমের সময়ও বাড়ে। 

২০১৫ সালের এক বিশ্লেষণে ৬৬টি গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, কয়েক দিন ব্যায়াম করলেই ঘুমের উন্নতি শুরু হয়। নিয়মিত ব্যায়ামে ঘুমের মান আরও ভালো হয়।

তবে ব্যায়াম খুব কঠিন হতে হবে না। সপ্তাহে তিন দিন করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়। মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম সবচেয়ে উপকারী। দিনে মাত্র ১০ মিনিট করলেও উপকার মিলতে পারে। ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে ব্যায়াম করলেও সমস্যা হয় না। যারা দিনের বেলা সময় পান না, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক।

ব্যায়াম শুধু ঘুমই ভালো করে না। এটি শরীরকে সতেজ রাখে। এমনকি আগের রাতে ঘুম কম হলেও ব্যায়াম করলে নিজেকে ফ্রেশ লাগে।


অ্যালকোহল ও তামাক পরিহারঃ

ধূমপান করলে ঘুমাতে দেরি হয়। গভীর ঘুমও কমে যায়। অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করলে শুরুতে ঘুম পায়। কিন্তু নিয়মিত পান করলে উল্টো সমস্যা তৈরি হয়। এতে অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ে। রাতের শেষ ভাগে ঘুম বেশি ভাঙে। নেশাজাতীয় দ্রব্য শুধু ঘুম নয়, পুরো শরীরেই ভয়ংকর খারাপ প্রভাব ফেলে। 


সকালের নাশতাঃ

কিছু গবেষণায় নাশতা খাওয়ার উপকার পাওয়া গেছে। প্রায় ৪৩টি গবেষণার এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নাশতা করলে মনোযোগ ও স্মৃতি কিছুটা বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া গেছে। আরও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে নাশতা করেন, তারা কম ক্লান্ত অনুভব করেন। এক গবেষণায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। 

নিয়মিত সময়ে খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাসে ক্লান্তি বাড়তে পারে।  তাই খুব ব্যস্ত হলেও সকালে কিছু খেয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন ডিম বা এক গ্লাস দুধ।এই অভ্যাস ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

-সংগৃহীত ।

24/03/2026

গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণায় ভুগছেন? সুস্থ্য থাকতে যা যা করবেন!


ভাজাপোড়া খাবার, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর দুশ্চিন্তার কারণে গ্যাস্ট্রিক এখন ঘরে ঘরে পরিচিত সমস্যা। বুক জ্বালাপোড়া করলেই আমরা চট করে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে ফেলি। কিন্তু নিয়মিত এভাবে ওষুধ খাওয়া লিভার বা কিডনির জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অথচ প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস বদলে ফেললেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


কেন হয় গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি?

পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্ল্যান্ড থেকে যখন অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ হয়, তখনই অ্যাসিডিটি দেখা দেয়। এর মূল কারণগুলো হলোঃ

🌰 দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা। 

🌰 অতিরিক্ত চা, কফি, ধূমপান বা মদ্যপান।

🌰 অনিদ্রা ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা।

🌰 মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার অতিরিক্ত খাওয়া।


গ্যাস্ট্রিক এড়াতে যা যা করবেন

  1.  খাবারের সময়ঃ কোনো বেলার খাবার বাদ দেবেন না। বিশেষ করে রাতের খাবার ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সেরে ফেলার চেষ্টা করুন।
  2. অল্প অল্প খাওয়াঃ একবারে অতিরিক্ত না খেয়ে অল্প পরিমাণে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  3. খাওয়ার পর বিশ্রামঃ খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না। কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করুন।
  4. বর্জনীয় খাবারঃ অতিরিক্ত রসুন, লবণ, তেল ও মরিচযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সাইট্রাস ফল (টক জাতীয় ফল) অতিরিক্ত খাবেন না।
  5.  নেশা ত্যাগঃ ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন। 


ঘরোয়া সমাধানে ৩টি জাদুকরী খাবারঃ

পুদিনা পাতাঃ  এটি হজম শক্তি বাড়ায় এবং বুক জ্বালাপোড়া কমায়। কিছু পুদিনা পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠাণ্ডা করে পান করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

মৌরিঃ  খাওয়ার পর মৌরি চিবিয়ে খেলে পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধ হয়। এ ছাড়া সারারাত মৌরি ভিজিয়ে রাখা পানি সকালে খালি পেটে খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে।

টকদইঃ  টকদইয়ের ক্যালসিয়াম পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমতে বাধা দেয়। এর ল্যাকটিক অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। ভালো ফলের জন্য টকদইয়ের সাথে সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে নিতে পারেন।

-সংগৃহীত ।

14/03/2026

ডায়াবেটিসে ক্ষুদ্র রক্তনালির রোগ


ডায়াবেটিস একটি রক্তনালিভিত্তিক রোগ। এতে ধীরে ধীরে শরীরের অতি সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সৃষ্ট মাইক্রোভাসকুলার রোগ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে জীবনমানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


কীভাবে এ রোগ হয়ঃ

রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে রক্তনালির ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোটা ও শক্ত হয় রক্তনালির দেয়াল। রক্ত চলাচল কমে। অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাব দেখা দেয় টিস্যুতে। একে বলে ডায়াবেটিক মাইক্রোঅ্যানজিও, যা ধীরে ধীরে চোখ, কিডনি ও স্নায়ু আক্রান্ত করে।


যেসব উপসর্গ দেখা যায়ঃ

ডায়াবেটিসে চোখের রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুরুতে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। আলো দেখলে চোখে ঝিলমিল লাগে। হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। দেরিতে চিকিৎসা নিলে স্থায়ী অন্ধত্ব হতে পারে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর থেকেই বছরে অন্তত একবার চোখের ফান্ডাস পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

ডায়াবেটিস কিডনির ছাঁকনি ব্যবস্থা ধীরে ধীরে নষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে প্রস্রাবে অ্যালবুমিন/প্রোটিন যাওয়া; পা, মুখ বা শরীর ফুলে যাওয়া; প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়।

ডায়াবেটিসে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব দেখা যায়। জ্বালাপোড়া বা পুড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়ে থাকে। অবশতা বা অনুভূতি কমে যায়। ব্যথা বেশি হয় রাতের বেলা। অনুভূতি কমে যাওয়ায় পায়ে ক্ষত হলেও রোগী টের পান না। এতে সংক্রমণ, ঘা ও শেষ পর্যায়ে ডায়াবেটিক ফুট ও পা কেটে ফেলার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


কারা ঝুঁকিতে, কীভাবে বুঝবেন?

১০ বছরের বেশি সময় ধরে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। যাঁদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে উচ্চ মাত্রার চর্বি আছে, ধূমপান করেন, স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও পরীক্ষা না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বেশি হয়।

ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে জটিলতাগুলো নিরীক্ষণ করতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বুঝতে রক্তে তিন মাসের গড় শর্করা বা এইচবিএওয়ানসি পরীক্ষা করা হয়। এটি বছরে তিন বা চারবার করতে হবে ও এর লক্ষ্যমাত্রা ৭-এর কম, ক্ষেত্রবিশেষে ৬ দশমিক ৫-এর কম।


প্রতিরোধ ও চিকিৎসার মূলনীতিঃ

মাইক্রোভাসকুলার রোগ প্রতিরোধের প্রধান চাবিকাঠি ভালো শর্করা নিয়ন্ত্রণ। এ ছাড়া রক্তচাপ ১৩০/৮০-এর মধ্যে রাখা, এ ক্ষেত্রে এসিই ইনহিবিটর বা এআরবি গোত্রের ওষুধ কিডনির জন্য উপকারী। চর্বি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্ট্যাটিন থেরাপি নেওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ধূমপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে। পায়ের নিয়মিত যত্ন ও পরীক্ষা করতে হবে।


ডায়াবেটিস মানেই জটিলতা অনিবার্য নয়। নিয়মিত চিকিৎসা, সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে এ রোগ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

-সংগৃহীত ।

11/03/2026

হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা ? জেনে নিন প্রতিকার


অনেকেই হাড়ের জয়েন্ট বা গাঁটের ব্যথায় ভুগে থাকেন। অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন কিছু ছোট ভুল বা অভ্যাসের কারণেই এই ব্যথা প্রকট আকার ধারণ করে। চলুন, জেনে নিই কোন কাজগুলো আপনার অজান্তেই জয়েন্ট পেইন বাড়িয়ে দিচ্ছে।


একটানা বসে থাকাঃ

আমরা অনেকেই দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করি। এর ফলে জয়েন্টে এক ধরনের তরল বা ফ্লুইড জমে যেতে পারে। এই ফ্লুইড জমে গেলে পেশিতে টান ধরে (মাসল ক্র্যাম্প) এবং জয়েন্ট শক্ত হয়ে ব্যথা শুরু হয়। তাই কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ানো বা হাঁটাচলা করা জরুরি।


ভুল জুতো নির্বাচনঃ

পায়ের ধরণ অনুযায়ী সঠিক জুতো না পরলে গোড়ালি ও কোমরে ব্যথা হতে পারে। খুব বেশি হিল জুতো পরলে যেমন ক্ষতি, তেমনি একদম পাতলা চটি পরলে পা মচকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সবচেয়ে ভালো হলো পা ঢাকা আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতো পরা।


ভুল ভঙ্গিতে বসা বা কাজ করাঃ

ঘাড় ঝুঁকিয়ে মোবাইল দেখা, ল্যাপটপে কাজ করা কিংবা ঘাড় উঁচু করে টিভি দেখার কারণে ঘাড় ও কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এ ছাড়া খুব উঁচু বালিশে ঘুমানোর অভ্যাসও ঘাড় ও পিঠের ব্যথার অন্যতম কারণ।


শরীরে পানির অভাবঃ

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে শরীর ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলেও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে পানি পান নিশ্চিত করুন।


শরীরচর্চায় অবহেলাঃ

ব্যায়াম করার সময় পেশিতে টান লাগলে অনেকেই তা অবহেলা করেন। এই ছোট ছোট চোট পরবর্তীতে বড় ধরণের জয়েন্ট পেইনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়

04/03/2026

রমজানে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা, সমাধান করবেন যেভাবে!!


প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে স্বাভাবিকভাবেই খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার পর ইফতার ও সেহরিতে খাবারের ধরন, পরিমাণ ও সময়ের তারতম্যের কারণে পরিপাকতন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে অনেকেই রোজার শুরু থেকেই গ্যাস, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, গলা-বুক জ্বলা ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যায় ভোগেন। তবে সচেতন খাদ্য নির্বাচন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে এসব সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 


রমজানে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ হলো সারা দিন খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভারী, তেল-মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ। এতে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ হয় এবং গ্যাস, ঢেকুর ওঠা ও বুক জ্বলার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ সমস্যা এড়াতে ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে ১–২ দিন সীমিত পরিমাণে রাখা যেতে পারে। একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ভাগ করে খাওয়া উত্তম। একইভাবে একবারে অনেক পানি পান না করে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে ধীরে ধীরে পানি পান করা উচিত।


ইফতারের জন্য পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য মেনু নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—দই-চিড়া, খেজুর, সেদ্ধ ডিম একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। এছাড়া ওটস ও সবজিসহ সেদ্ধ ডিম, বিভিন্ন প্রকার ফল, মিক্সড ফলের সঙ্গে টক দই এবং খেজুরও ভালো নির্বাচন অথবা ঘরে তৈরি হালিম ও ইফতারের মেনু হিসেবে রাখা যায়। এতে করে পাওয়া যায় ব্যালান্সড নিউট্রিশন। এসব খাবার শরীরে ধীরে শক্তি জোগায়, পরিপাক প্রক্রিয়া সহজ রাখে এবং অতিরিক্ত তেল গ্রহণ কমায়।


সেহরির ক্ষেত্রেও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সেহরি খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে গলা জ্বলা ও অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে। তাই সেহরি সম্পন্ন করে ফজরের নামাজ আদায় করার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা হালকা নড়াচড়া করে বসে বিশ্রাম নেওয়া উচিত, এরপর ঘুমালে তা পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী হয়।


সেহরিতে এমন খাবার পরিহার করা উচিত নয় যা পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে। চর্বিজাতীয় খাবার, অতিরিক্ত তেলে ভাজা পদ, অতিরিক্ত ঝাল, চা ও কফি অ্যাসিডিটির মাত্রা বাড়াতে পারে। পরিবর্তে অল্প পরিমাণে ভাত বা রুটি, শাক-সবজি, ডিম, দুধ, মাছ বা মাংস গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে রান্নায় তেল-মসলার ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ও তরল জাতীয় খাবার সেহরিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যা ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।


যাদের পূর্ব থেকে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করে নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। সঠিক সময় ও সঠিক মাত্রায় ওষুধ সেবন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোজা পালনে সমস্যা হয় না।


রমজানে খাবারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সুষম, সহজপাচ্য ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণ। অতিরিক্ততা পরিহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত জীবনযাপনই পারে রমজানে পরিপাকজনিত সমস্যা থেকে দূরে রাখতে এবং ইবাদতের জন্য শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে।

- সংগৃহীত ।

28/02/2026

ইফতার ও সাহরিতে কোন ধরনের খাবার খাবেন!


এখন পবিত্র রমজান মাস। মুসলমানদের সারা বছর যে খাবারগুলো খাওয়া হয় না বললেই চলে বা কম খাওয়া হয়, এমন সব খাবার রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন খাওয়ার প্রচলনটাও কম নয়।


রোজা বা সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। তাই রোজা সবার জন্য অবশ্য পালনীয় ইবাদত। রোজা রেখে আমাদের খাবার যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে আমরা সুস্থ থাকতে পারব এবং আরও বেশি ইবাদত পালন ও দৈনন্দিন কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারব। এদিকে মাঘ মাস শেষ হয়ে চলছে ফাল্গুন। আবহাওয়ায় শুরু হয়েছে ঋতু পরিবর্তনের খেলা। দিনে কিছুটা গরম এবং রাতে অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডা। ধীরে ধীরে বাড়বে তাপমাত্রা, এ অবস্থায় শরীর কিছুটা পানিশূন্য হয়ে পড়া খুবই স্বাভাবিক। কেমন খাবার হলে রোজা থেকেও সুস্থ ও সতেজ থাকা যায় চলুন জেনে নেওয়া যাক। 


ইফতারঃ

সারা দিন রোজা রাখার ফলে দেহ পানিশূন্যতায় ভোগে। তাই ইফতার হতে হবে হাইড্রেটিং এবং রিফ্রেশিং। এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে অনেক রকমের ফল। তাই ইফতারে যে কোনো ফ্রেশ ফ্রুট জুস বা কয়েকটি ফলের ফ্রুট ককটেল রাখতে পারেন যা আপনাকে করে তুলবে একদম চাঙা। খুব বেশি ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন, এমন গুরুপাক খাবার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ছাড়াও ডায়রিয়া বা অন্যান্য পেটের অসুখের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই খেতে পারেন বেকড স্যান্ডউইচ, ওটস অথবা দই-চিঁড়া। তাছাড়া থাকতে পারে অল্প তেলে রান্না করা নুডলস। শুকনো ফল, খেজুর ও বাদাম হতে পারে শক্তির উৎস। ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত অবশ্যই ন্যূনতম আট গ্লাস পানি পান করবেন, তবেই শরীরে পানির কোনো অভাব হবে না। তাই সচেতন হোন।


রাতের খাবারঃ

অনেকেই ইফতারে অতিরিক্ত খেয়ে রাতের খাবারটি বাদ রাখেন, যা মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। রাতে না খেয়ে থাকলে এসিডিটি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে রোজা থেকে সারা দিন বুক জ্বালাপোড়া করে। তাই ডিনার একদম বাদ দেবেন না। কম খেতে চাইলে হালকা কিছু খেতে পারেন। যেমন একবাটি সবজির স্যুপ সঙ্গে এক স্লাইস ব্রাউন ব্রেড ও সিদ্ধ ডিম একটা। ভাত খেলে সবজি ও সালাদের আধিক্য রেখে পছন্দসই মাছ খেতে পারেন। 


সাহরিঃ

এটি একটু ব্যতিক্রম সময়ের খাবার। সাধারণত আমরা এ সময় খেয়ে অভ্যস্ত নই। আবার এ সময়ের খাবারের ওপর নির্ভর করে আমাদের সারা দিনের কর্মক্ষমতা। তাই সারা দিন যেন সতেজ থাকা যায় এমন খাবার খেতে হবে সাহরিতে। পানীয় জাতীয় খাবার যেমন ডাল বা স্যুপজাতীয় খাদ্য রাখতে হবে তালিকায়। সহজে পরিপাক হয় এমন খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত কষানো খাবার থেকে বিরত থাকুন। প্রোটিনের চাহিদা মাংসের পরিবর্তে মাছ বা দুধ দিয়ে পূরণ করুন। সবুজ শাক বা পানি জাতীয় সবজি যেমন- পেঁপে, লাউ, ঢ্যাঁড়শ ইত্যাদি খান। এখানে যেভাবে খাদ্য নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে তা সুস্থ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। যদি কোনো বিশেষ রোগ থাকে যেমন ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ, তারা ডাক্তার ও পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করবেন।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...