জন্ডিস একটি সাধারণ পরিচিত রোগ।আমাদের এমন কোন পরিবার নেই যাদের কারো না কারো এই রোগ হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগ আপনা আপনি সেরে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস ভাল হয়না যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া।আজকে কখন এই রোগের জন্য অবশ্যই সার্জনের পরামর্শ নেবেন সেই বিষয়ে আলোকপাত করব।
🔷 জন্ডিস কী?
জন্ডিস (Jaundice) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চোখের সাদা অংশ, ত্বক ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়। এটি নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের
ভেতরের সমস্যার একটি লক্ষণ।
🔷 জন্ডিসের প্রধান কারণগুলো কী?
জন্ডিস সাধারণত তিন ধরনের কারণে হয়-
১. লিভারের সমস্যা (হেপাটাইটিস, সিরোসিস)
২. রক্তের সমস্যা (হিমোলাইসিস)
৩. পিত্তনালীর সমস্যা (গলস্টোন, টিউমার, পিত্তনালীর সংকোচন)
🔷 জন্ডিস হলেই কি সার্জারি প্রয়োজন?
অধিকাংশ জন্ডিসে সার্জারির প্রয়োজন হয় না। তবে যদি জন্ডিসের কারণ হয় পিত্তনালীর
যান্ত্রিক বাধা (Obstructive jaundice), তখন অনেক ক্ষেত্রে সার্জারি বা এন্ডোস্কোপিক
চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
🔷 কোন ধরনের জন্ডিসে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে?
নিচের অবস্থাগুলোতে সার্জারি বা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে—
১. পিত্তনালীতে পাথর (CBD stone)
২. গলব্লাডারের পাথর থেকে জন্ডিস
৩. পিত্তনালীর ক্যান্সার
৪. প্যানক্রিয়াসের টিউমার
৫. পিত্তনালীর জন্মগত সংকোচন
🔷 গলস্টোনের কারণে জন্ডিস হলে কী চিকিৎসা লাগে?
১. প্রথমে ঊজঈচ করে পিত্তনালী থেকে পাথর বের করা হয়
২. এরপর উপযুক্ত সময়ে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি (গলব্লাডার অপারেশন) করা হয়
🔷 ক্যান্সারের কারণে জন্ডিস হলে কি অপারেশন সম্ভব?
১. যদি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তাহলে সার্জারির মাধ্যমে আরোগ্য লাভ সম্ভব
২. দেরিতে ধরা পড়লে প্যালিয়েটিভ সার্জারি বা স্টেন্টিং করে জন্ডিস ও কষ্ট কমানো হয়।
🔷 কোন লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত সার্জনের কাছে যেতে হবে?
১. চোখ ও ত্বক বেশি হলুদ হওয়া
২. প্রস্রাব গাঢ় হলুদ, পায়খানা ফ্যাকাশে
৩. চুলকানি
৪. ওজন কমে যাওয়া
৫. জ্বরসহ জন্ডিস
৬. পেট ফুলে যাওয়া।
মনে রাখবেন প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে যেসব ক্ষেত্রে সার্জারি প্রয়োজন অবশ্যই সার্জারি ই আপনাকে রোগ মুক্তি দেবে।কাজেই ভয় নয়,সচেতন হোন।রোগ নিয়ে হেলাফেলা নয়।
-সংগৃহীত ।