08/02/2026

পেঁপের বীজের উপকারীতা


ডায়েটিশিয়ান ও হেলথ কোচ বিধি চাওলার মতে, পেঁপের বীজে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন। এর পাশাপাশি এতে জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই বীজ শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।


ওজন কমাতে সহায়কঃ

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের ডায়েটে পেঁপের বীজ হতে পারে একটি ভাল সংযোজন। এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে বারবার কিছু খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ ফাইবারযুক্ত ডায়েট ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমাদের অন্ত্রে থাকা কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হজম ও হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে জড়িত। পেঁপের বীজে থাকা ‘কারপেইন’ নামের একটি উপাদান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অন্ত্রের কৃমি দূর করতে সাহায্য করে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফোলা ও হজমজনিত সমস্যা কমতে পারে।


কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে উপকারীঃ

হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য কোলেস্টেরলের ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি। পেঁপের বীজে থাকা ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং ভাল কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা ওলেইক অ্যাসিডও হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।

অনেক মহিলাই ঋতুচক্রের সময় ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। পেঁপের বীজে থাকা ক্যারোটেনয়েডস ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটি পিরিয়ড ক্র্যাম্প কমাতেও সহায়ক হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।


ফুড পয়জনিং থেকে সুরক্ষাঃ

পেঁপের বীজে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। সে কারণেই ফুড পয়জনিং সংক্রান্ত সমস্যায় একে প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হওয়ায় এই বীজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। নিয়মিত কিন্তু পরিমিত মাত্রায় খেলে শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।


পেঁপের বীজ খাওয়ার সঠিক উপায়ঃ

পেঁপের বীজ খাওয়ার বেশ কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে। রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে স্যালাডের উপর ছড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে। দই বা সসের সঙ্গেও মেশানো যায়। কেউ কেউ হালকা ঝাঁঝালো স্বাদের কারণে গোলমরিচের বিকল্প হিসাবেও এটি ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে এক টেবিলচামচ পর্যন্ত পেঁপের বীজ খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে, তাই পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি।

-সংগৃহীত ।

07/02/2026

বুকে ব্যথা হলে ভুলেও যেসব কাজ করা যাবে না


বুকে ব্যথা শুরু হলেই উদ্বেগ বেড়ে যায় সবার মনে। সেই ভয়ের মুহূর্তে কেউ কেউ আবার এমন কাজ করে বসেন, যা তখন না করলেই ভালো। বুকের ব্যথাকে গ্যাসের ব্যথা ভেবে ভুল করেন অনেকে, অনেকে আবার বুকে ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ পুরে দেন মুখে, কেউ কেউ আবার ক্ষণিকের ব্যথা ভেবে বাড়িতেই বসে থাকেন। এসব সাধারণ ভুলগুলো কিন্তু বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে যখন তখন।

বুকে ব্যথা শুরু হলে অনেকে কোনোরকম ভাবনাচিন্তা না করেই ইকো করাতে ছোটেন। ইকো বা ইকোকার্ডিয়োগ্রাফি হলো এক বিশেষ প্রকারের আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা, যার মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্রের গঠনগত সমস্যা ও কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, ইকো একান্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, কিন্তু ঠিক কী কারণে ইকো করাবেন, তা জানাটাও জরুরি।

ইকো করালে হৃৎপিণ্ডের গঠন, ইজেকশন ফ্র্যাকশন এবং হৃৎপিণ্ড কতটা কার্যকরভাবে শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পাম্প করতে পারছে, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।

এটি ভাল্‌ভ-সম্পর্কিত সমস্যাগুলোকে শনাক্ত করতেও সাহায্য করে, এ ছাড়া পূর্বে হার্ট অ্যাটাকের কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশির কোনো অংশ সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে কি না, সে বিষয়ও ধারণা পাওয়া যায় ইকোর রিপোর্ট দেখে।

তবে ইকোর রিপোর্ট দেখে কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির বিষয়ে কোনোরকম আঁচ পাওয়া যায় না। হৃৎপিণ্ডের পেশিগুলোর কাজ করার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন। যখন হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং একই সঙ্গে চাহিদা বৃদ্ধি পায়, তখন এই ভারসাম্যহীনতা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।

এই ভারসাম্যহীনতা চোখে পড়ে ইসিজি আর ট্রেডমিল টেস্টের রিপোর্টে। তাই বুকে কোনো রকমের অস্বস্তি হলে যদি হার্টজনিত সমস্যা মনে হয়, তাহলে ইকোর আগে ইসিজি আর ট্রেডমিল টেস্ট করানো বেশি জরুরি।

-সংগৃহীত ।

05/02/2026

যেকারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলতে পারেন


পূর্ণবয়স্ক কোন  ব্যক্তি যদি বলেন, তিনি পাশের দিকে দেখতে পারছেন না, তা হলে বুঝতে হবে, অনেকটা ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। আর কী দেখে সাবধান হবেন?

আট থেকে যে কোনো বয়সের মানুষের চোখেই থাবা বসাতে পারে গ্লুকোমা। ঠিক সময়ে ধরা না পড়লে এবং চিকিৎসা শুরু না করলে চিরতরে দৃষ্টিশক্তিও কেড়ে নিতে পারে এই রোগ। তাই চিকিৎসকেরা একে ‘সাইলেন্ট থিফ’ বলে থাকেন।

গ্লুকোমা ঠিক কী ও কেন হয়?

চিকিৎসকদের মতে, চোখের মধ্যে যে অংশ দিয়ে তরল চলাচল করে, সেই রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে তা জমে চোখের ওপরে চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে অপটিক স্নায়ুতে। সেই চাপ বাড়তে থাকলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণতর হতে থাকে, পরবর্তী কালে যা অন্ধত্ব ডেকে আনে।

প্রাথমিকভাবে ক্ষতিটা শুরু হয় পরিধির চারপাশ থেকে, তাই গ্লুকোমায় আক্রান্ত রোগীদের ‘সাইড ভিশন’ নষ্ট হতে থাকে।

চোখের ভেতর জল তৈরি হতে থাকে, অথচ বেরোনোর জায়গা পায় না;এর ফলেই তা দুর্বল জায়গাগুলোতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। কোনো পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি যদি বলেন, তিনি পাশের দিকে দেখতে পারছেন না, তা হলে বুঝতে হবে, ক্ষতি অনেক দূর ছড়িয়ে গেছে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে গ্লুকোমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

গ্লুকোমার প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?

🔷 দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।

🔷 চোখ থেকে অত্যধিক জল পড়া। চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

🔷 আলোর দিকে তাকালে চোখে খুব ব্যথা হওয়া।

🔷 চোখের পাতা এঁটে যাওয়া, চোখ খুলতে না পারা।

🔷 দীর্ঘ দিন কোনো স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে, চোখে কোনো আঘাত পেয়ে থাকলে বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে গ্লুকোমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

🔷 চোখের চিকিৎসক একবার পাওয়ার সেট করে দেওয়ার পরে সাধারণত আর এক-দেড় বছরের মধ্যে তা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে না। যদি মাস কয়েক যাওয়ার পর থেকেই দেখতে অসুবিধে হয়, কিংবা ঘন ঘন পাওয়ার বাড়ে, তা হলে সন্দেহ করতে হবে, তা গ্লুকোমার প্রকোপে হতে পারে। 

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগে আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণভাবে সারানো সম্ভব নয়। তবে সময় মতো ধরা পড়লে চিকিৎসা করা সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।

-সংগৃহীত ।

01/02/2026

শিশুদের দাঁত কেন গুরুত্বপূর্ণ

ছবিঃ সংগৃহীত ।

ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সের মধ্য বাচ্চাদের মুখে বিশটি দুধদাঁত ওঠে এবং তা ছয় বছর বয়স থেকে পড়া শুরু করে। যেহেতু এই দাঁতগুলো স্থায়ী না, তাই অনেক বাবা মা মনে করেন বাচ্চার দুধদাঁতের তেমন প্রয়োজনীয়তা নেই। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। একটা শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতার পাশাপাশি দাঁতের সুস্থতা ও অত্যন্ত জরুরি।


শিশুদের দুধদাঁত কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, চলুন তার কারণগুলো জেনে নেওয়া যাকঃ

১. শরীরের সুস্থতা এবং পুষ্টি আসে খাবার থেকে। দাঁত ক্ষয় হয়ে যদি ব্যথা সৃষ্টি হয়, বাচ্চা 

ঠিকমতো খেতে চায় না যার ফলে দেখা দেয় পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব ।

২. দাঁতে গর্ত তৈরি হলে চিবাতে অসুবিধা হয়, রুচি নষ্ট হয় এবং খাবার হজমের সমস্যা দেখা দেয়।

৩. দুধদাঁত সঠিক উচ্চারণ ও শব্দ গঠনে সহায়তা করে। তাই মুখে দাঁত অনুপস্থিত থাকলে উচ্চারণে অসুবিধা হয়।

৪. মুখের হাড় বৃদ্ধিতে ও চোয়ালের স্বাভাবিক গঠন ঠিক রাখতে দুধদাঁতের ভূমিকা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে দাঁত পড়ে গেলে চোয়ালের সঠিক বৃদ্ধি নাও হতে পারে।

৫. দুধদাঁত, স্থায়ী দাঁতের জন্য জায়গা ধরে রাখে। যদি সময়ের পূর্বেই দুধদাঁত পড়ে যায় বা ফেলে দেয়া হয় তাহলে স্থায়ী দাঁত আঁকাবাঁকা ভাবে ওঠে।

৬. দাঁত মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং শিশুকে আত্মবিশ্বাসী রাখে। দাঁতে কালো দাগ পড়লে বা গর্ত

তৈরি হলে আপনার শিশু হীনমন্যতায় ভোগে।

৭. ঠিকমতো দাঁত পরিচর্যা না করার ফলে তাতে গর্ত হয়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে যা শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট করে।

৮. অতিরিক্ত চিনিজাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয় এবং সেই সংক্রমণ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে নানাবিধ অসুখ সৃষ্টি করতে পারে।


তাই আপনার শিশুর দুধদাঁতের প্রতি এখনই যত্নশীল হোন।

১. প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই পরিচর্যা শুরু করুন।

২. নিয়মিত দুইবেলা দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. ছোটবেলা থেকেই পুষ্টিকর খাবার দিন।

৪. দাঁতের ছোটোখাটো সমস্যার ব্যাপারেও সজাগ থাকুন এবং দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করুন। 

৫. ছয় মাস পর পর দাঁতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

মনে রাখবেন সুস্থ সবল দাঁত আপনার শিশুকে উপহার দিবে প্রাণবন্ত জীবন এবং নিজেকে করে তুলবে আত্মবিশ্বাসী।

-সংগৃহীত ।

31/01/2026

দীর্ঘক্ষণ কিবোর্ডে টাইপ করলে হাতে টান লাগে?


বর্তমান সময়ে প্রায় কেউই হাতে লিখতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। বেশির ভাগ মানুষই কাজ সারছেন ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে টাইপ করে। মাউসের এক ক্লিকেই যেন দুনিয়া ঘুরে আসা যায়। কিন্তু দিনের শেষে বাড়ি ফিরে অনেকেই টের পান, হাত দুটির ওপর দিয়ে যেন ঝড় বয়ে গেছে।


হাত ব্যথা করে, পেশিতে টান ধরে। আশ্চর্যের বিষয়, পরীক্ষার সময় টানা কয়েক ঘণ্টা খাতা-কলমে লেখার পরও এত অস্বস্তি হতো না। তাহলে টাইপ করা, স্ক্রল করা বা বারবার ক্লিক করাই কি এই সমস্যার মূল কারণ?


চিকিৎসকদের মতে, অনেকে ভেবে থাকেন এ ধরনের ব্যথা কেবল পেশিতে টান লাগার কারণেই হয়ে থাকে। কিন্তু বিষয়টি সবসময় এতটা সরল নয়।


এর পেছনে স্নায়ুরও বড় ভূমিকা থাকতে পারে। হাতের স্নায়ুগুলো সরাসরি মস্তিষ্ক ও সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ সময় ধরে হাত দুটি ভুল ভঙ্গিতে ঝুলিয়ে রাখা বা কব্জিতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে স্নায়ুর ওপর প্রভাব পড়ে, আর সেখান থেকেই ব্যথা শুরু হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে ‘ডিস্টোনিয়া’ বলা হয়।


ডিস্টোনিয়া কীঃ

একই ভঙ্গিতে বা একই ধরনের কাজ দীর্ঘক্ষণ করতে থাকলে ধীরে ধীরে হাতের স্নায়ুতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। শুধু টাইপ করাই নয়, অতিরিক্ত স্ক্রলিং, ক্লিক করা বা দীর্ঘ সময় লেখালিখির ফলেও এই সমস্যা হতে পারে। এতে হাত শক্ত হয়ে যাওয়া, টান ধরা, মুঠোর জোর কমে যাওয়া, এমন নানা উপসর্গ দেখা দেয়। অনেকেরই বেশিক্ষণ কিছু ধরে রাখতে অসুবিধা হয়।


কিভাবে মুক্তি মিলবেঃ

চিকিৎসকদের মতে, তীব্র ব্যথা হলে শুরুতে ওষুধের সাহায্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। ব্যথা কিছুটা কমলে ফিজিয়োথেরাপি উপকারী হতে পারে। নিয়মিত হালকা ব্যায়ামও হাতের পেশি ও স্নায়ুকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ ধরনের ইনজেকশন প্রয়োজন হতে পারে। আর সমস্যা যদি অত্যন্ত জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়াতে পারে।


29/01/2026

নাক ডাকার সমস্যা যে ভিটামিনের ঘাটতিতে হয়


অনেকেই ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকেন, কিন্তু বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। সাধারণভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় নাক, মুখ, গলা বা শ্বাসনালীর কোনো অংশে বায়ু চলাচলে বাধা তৈরি হলেই এই শব্দ হয়। তবে অনেকেরই জানা নেই, নিয়মিত নাক ডাকার পেছনে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও একটি কারণ হতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রচুর মানুষের শরীরেই ভিটামিন ডি-এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এই ভিটামিন শুধু হাড় মজবুত রাখার কাজই করে না, বরং পেশি, শ্বাসনালি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।


চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিটামিন ডি শরীরের বিভিন্ন পেশিকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে, যার মধ্যে গলা ও শ্বাসনালির পেশিও রয়েছে। যখন শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হয়, তখন ওই পেশিগুলো দুর্বল ও ঢিলে হয়ে যেতে পারে। ফলে ঘুমের সময় শ্বাসনালি আংশিকভাবে সংকুচিত হয়ে যায় এবং বাতাস চলাচলের সময় শব্দ তৈরি হয়, যা আমরা নাক ডাকা হিসেবে চিনি।


এর পাশাপাশি, ভিটামিন ডি কম থাকলে শরীরে প্রদাহ বা ভেতরের ফোলাভাব বাড়তে পারে। এই প্রভাব নাক ও গলার ভেতরেও পড়ে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয় এবং নাক ডাকার প্রবণতা বেড়ে যায়। শুধু নাক ডাকা নয়, এর সঙ্গে আরো কিছু উপসর্গও দেখা দিতে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে সারা দিন অকারণ ক্লান্তি লাগা, ঘুম ঠিকমতো না হওয়া, পেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা, বারবার সর্দি-কাশি হওয়া, এমনকি মন খারাপ বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।


এই ঘাটতি পূরণ করবেন কিভাবে

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকা শরীরের জন্য উপকারী। খাদ্যতালিকায় ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ ও মাশরুম রাখলেও উপকার মেলে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে।


যদি নিয়মিত নাক ডাকার সমস্যা থাকে, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় বা সকালে উঠে অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগে, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর অভ্যাস নয়, অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরের কোনো পুষ্টির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। ভিটামিন ডি-এর অভাব তার মধ্যে একটি সম্ভাব্য কারণ। তাই ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে শুধু বাহ্যিক কারণ নয়, শরীরের পুষ্টিগত দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

28/01/2026

ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে যা হয়


সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শরীরের প্রথম ও জরুরি চাহিদা হলো পানি। সারা রাত ঘুমের সময় শরীর খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করলেও শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘাম, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য পদার্থ বের হওয়ার মতো প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।


পুষ্টিবিদদের মতে, ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। সকালে উঠেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে শরীরের তরলের ভারসাম্য ঠিক হয়। এতে ব্রেন ফগ কমে, ঝিমুনি কাটে এবং মনোযোগ বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়ার আগে পানি খেলে মনোসংযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে।


ঘুমের সময় শরীরে কোনো খাবার বা পানীয় না ঢুকলেও দেহের ভেতরের কাজ থেমে থাকে না। শ্বাস নেওয়া, রক্তসঞ্চালন, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিষাক্ত পদার্থ বের করার জন্য শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই সকালে পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা বা অলস ভাব দেখা দিতে পারে।

 

সকালে পানি খাওয়ার যে উপকারিতা রয়েছেঃ

▶▶ রাতে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণ করে শরীরকে আবার কর্মক্ষম করে তোলে। 

▶▶ পানি খেলে অন্ত্রে স্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হয়, ফলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে।

▶▶ অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী এক ঘণ্টার জন্য বিপাকীয় হার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

▶▶ শরীরের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়, কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ কমে।


সকালে পানি খেলে মন ও শরীরে যা ঘটেঃ

▶▶ ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। 

▶▶ নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। 

▶▶ সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে।


সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে।


ঘুম থেকে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস পানি পানই যথেষ্ট। খুব ঠাণ্ডা বা খুব গরম পানি নয়—স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সামান্য উষ্ণ পানি শরীর সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে। প্রতিদিন এই ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।

-সংগৃহীত ।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...