ছবিঃ সংগৃহীত ।
ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সের মধ্য বাচ্চাদের মুখে বিশটি দুধদাঁত ওঠে এবং তা ছয় বছর বয়স থেকে পড়া শুরু করে। যেহেতু এই দাঁতগুলো স্থায়ী না, তাই অনেক বাবা মা মনে করেন বাচ্চার দুধদাঁতের তেমন প্রয়োজনীয়তা নেই। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। একটা শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতার পাশাপাশি দাঁতের সুস্থতা ও অত্যন্ত জরুরি।
শিশুদের দুধদাঁত কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, চলুন তার কারণগুলো জেনে নেওয়া যাকঃ
১. শরীরের সুস্থতা এবং পুষ্টি আসে খাবার থেকে। দাঁত ক্ষয় হয়ে যদি ব্যথা সৃষ্টি হয়, বাচ্চা
ঠিকমতো খেতে চায় না যার ফলে দেখা দেয় পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব ।
২. দাঁতে গর্ত তৈরি হলে চিবাতে অসুবিধা হয়, রুচি নষ্ট হয় এবং খাবার হজমের সমস্যা দেখা দেয়।
৩. দুধদাঁত সঠিক উচ্চারণ ও শব্দ গঠনে সহায়তা করে। তাই মুখে দাঁত অনুপস্থিত থাকলে উচ্চারণে অসুবিধা হয়।
৪. মুখের হাড় বৃদ্ধিতে ও চোয়ালের স্বাভাবিক গঠন ঠিক রাখতে দুধদাঁতের ভূমিকা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে দাঁত পড়ে গেলে চোয়ালের সঠিক বৃদ্ধি নাও হতে পারে।
৫. দুধদাঁত, স্থায়ী দাঁতের জন্য জায়গা ধরে রাখে। যদি সময়ের পূর্বেই দুধদাঁত পড়ে যায় বা ফেলে দেয়া হয় তাহলে স্থায়ী দাঁত আঁকাবাঁকা ভাবে ওঠে।
৬. দাঁত মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং শিশুকে আত্মবিশ্বাসী রাখে। দাঁতে কালো দাগ পড়লে বা গর্ত
তৈরি হলে আপনার শিশু হীনমন্যতায় ভোগে।
৭. ঠিকমতো দাঁত পরিচর্যা না করার ফলে তাতে গর্ত হয়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে যা শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট করে।
৮. অতিরিক্ত চিনিজাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয় এবং সেই সংক্রমণ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে নানাবিধ অসুখ সৃষ্টি করতে পারে।
তাই আপনার শিশুর দুধদাঁতের প্রতি এখনই যত্নশীল হোন।
১. প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই পরিচর্যা শুরু করুন।
২. নিয়মিত দুইবেলা দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. ছোটবেলা থেকেই পুষ্টিকর খাবার দিন।
৪. দাঁতের ছোটোখাটো সমস্যার ব্যাপারেও সজাগ থাকুন এবং দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করুন।
৫. ছয় মাস পর পর দাঁতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
মনে রাখবেন সুস্থ সবল দাঁত আপনার শিশুকে উপহার দিবে প্রাণবন্ত জীবন এবং নিজেকে করে তুলবে আত্মবিশ্বাসী।
-সংগৃহীত ।