01/02/2026

শিশুদের দাঁত কেন গুরুত্বপূর্ণ

ছবিঃ সংগৃহীত ।

ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সের মধ্য বাচ্চাদের মুখে বিশটি দুধদাঁত ওঠে এবং তা ছয় বছর বয়স থেকে পড়া শুরু করে। যেহেতু এই দাঁতগুলো স্থায়ী না, তাই অনেক বাবা মা মনে করেন বাচ্চার দুধদাঁতের তেমন প্রয়োজনীয়তা নেই। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। একটা শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতার পাশাপাশি দাঁতের সুস্থতা ও অত্যন্ত জরুরি।


শিশুদের দুধদাঁত কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, চলুন তার কারণগুলো জেনে নেওয়া যাকঃ

১. শরীরের সুস্থতা এবং পুষ্টি আসে খাবার থেকে। দাঁত ক্ষয় হয়ে যদি ব্যথা সৃষ্টি হয়, বাচ্চা 

ঠিকমতো খেতে চায় না যার ফলে দেখা দেয় পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব ।

২. দাঁতে গর্ত তৈরি হলে চিবাতে অসুবিধা হয়, রুচি নষ্ট হয় এবং খাবার হজমের সমস্যা দেখা দেয়।

৩. দুধদাঁত সঠিক উচ্চারণ ও শব্দ গঠনে সহায়তা করে। তাই মুখে দাঁত অনুপস্থিত থাকলে উচ্চারণে অসুবিধা হয়।

৪. মুখের হাড় বৃদ্ধিতে ও চোয়ালের স্বাভাবিক গঠন ঠিক রাখতে দুধদাঁতের ভূমিকা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে দাঁত পড়ে গেলে চোয়ালের সঠিক বৃদ্ধি নাও হতে পারে।

৫. দুধদাঁত, স্থায়ী দাঁতের জন্য জায়গা ধরে রাখে। যদি সময়ের পূর্বেই দুধদাঁত পড়ে যায় বা ফেলে দেয়া হয় তাহলে স্থায়ী দাঁত আঁকাবাঁকা ভাবে ওঠে।

৬. দাঁত মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং শিশুকে আত্মবিশ্বাসী রাখে। দাঁতে কালো দাগ পড়লে বা গর্ত

তৈরি হলে আপনার শিশু হীনমন্যতায় ভোগে।

৭. ঠিকমতো দাঁত পরিচর্যা না করার ফলে তাতে গর্ত হয়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে যা শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট করে।

৮. অতিরিক্ত চিনিজাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয় এবং সেই সংক্রমণ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে নানাবিধ অসুখ সৃষ্টি করতে পারে।


তাই আপনার শিশুর দুধদাঁতের প্রতি এখনই যত্নশীল হোন।

১. প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই পরিচর্যা শুরু করুন।

২. নিয়মিত দুইবেলা দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. ছোটবেলা থেকেই পুষ্টিকর খাবার দিন।

৪. দাঁতের ছোটোখাটো সমস্যার ব্যাপারেও সজাগ থাকুন এবং দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করুন। 

৫. ছয় মাস পর পর দাঁতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

মনে রাখবেন সুস্থ সবল দাঁত আপনার শিশুকে উপহার দিবে প্রাণবন্ত জীবন এবং নিজেকে করে তুলবে আত্মবিশ্বাসী।

-সংগৃহীত ।

31/01/2026

দীর্ঘক্ষণ কিবোর্ডে টাইপ করলে হাতে টান লাগে?


বর্তমান সময়ে প্রায় কেউই হাতে লিখতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। বেশির ভাগ মানুষই কাজ সারছেন ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে টাইপ করে। মাউসের এক ক্লিকেই যেন দুনিয়া ঘুরে আসা যায়। কিন্তু দিনের শেষে বাড়ি ফিরে অনেকেই টের পান, হাত দুটির ওপর দিয়ে যেন ঝড় বয়ে গেছে।


হাত ব্যথা করে, পেশিতে টান ধরে। আশ্চর্যের বিষয়, পরীক্ষার সময় টানা কয়েক ঘণ্টা খাতা-কলমে লেখার পরও এত অস্বস্তি হতো না। তাহলে টাইপ করা, স্ক্রল করা বা বারবার ক্লিক করাই কি এই সমস্যার মূল কারণ?


চিকিৎসকদের মতে, অনেকে ভেবে থাকেন এ ধরনের ব্যথা কেবল পেশিতে টান লাগার কারণেই হয়ে থাকে। কিন্তু বিষয়টি সবসময় এতটা সরল নয়।


এর পেছনে স্নায়ুরও বড় ভূমিকা থাকতে পারে। হাতের স্নায়ুগুলো সরাসরি মস্তিষ্ক ও সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ সময় ধরে হাত দুটি ভুল ভঙ্গিতে ঝুলিয়ে রাখা বা কব্জিতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে স্নায়ুর ওপর প্রভাব পড়ে, আর সেখান থেকেই ব্যথা শুরু হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে ‘ডিস্টোনিয়া’ বলা হয়।


ডিস্টোনিয়া কীঃ

একই ভঙ্গিতে বা একই ধরনের কাজ দীর্ঘক্ষণ করতে থাকলে ধীরে ধীরে হাতের স্নায়ুতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। শুধু টাইপ করাই নয়, অতিরিক্ত স্ক্রলিং, ক্লিক করা বা দীর্ঘ সময় লেখালিখির ফলেও এই সমস্যা হতে পারে। এতে হাত শক্ত হয়ে যাওয়া, টান ধরা, মুঠোর জোর কমে যাওয়া, এমন নানা উপসর্গ দেখা দেয়। অনেকেরই বেশিক্ষণ কিছু ধরে রাখতে অসুবিধা হয়।


কিভাবে মুক্তি মিলবেঃ

চিকিৎসকদের মতে, তীব্র ব্যথা হলে শুরুতে ওষুধের সাহায্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। ব্যথা কিছুটা কমলে ফিজিয়োথেরাপি উপকারী হতে পারে। নিয়মিত হালকা ব্যায়ামও হাতের পেশি ও স্নায়ুকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ ধরনের ইনজেকশন প্রয়োজন হতে পারে। আর সমস্যা যদি অত্যন্ত জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়াতে পারে।


29/01/2026

নাক ডাকার সমস্যা যে ভিটামিনের ঘাটতিতে হয়


অনেকেই ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকেন, কিন্তু বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। সাধারণভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় নাক, মুখ, গলা বা শ্বাসনালীর কোনো অংশে বায়ু চলাচলে বাধা তৈরি হলেই এই শব্দ হয়। তবে অনেকেরই জানা নেই, নিয়মিত নাক ডাকার পেছনে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও একটি কারণ হতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রচুর মানুষের শরীরেই ভিটামিন ডি-এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এই ভিটামিন শুধু হাড় মজবুত রাখার কাজই করে না, বরং পেশি, শ্বাসনালি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।


চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিটামিন ডি শরীরের বিভিন্ন পেশিকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে, যার মধ্যে গলা ও শ্বাসনালির পেশিও রয়েছে। যখন শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হয়, তখন ওই পেশিগুলো দুর্বল ও ঢিলে হয়ে যেতে পারে। ফলে ঘুমের সময় শ্বাসনালি আংশিকভাবে সংকুচিত হয়ে যায় এবং বাতাস চলাচলের সময় শব্দ তৈরি হয়, যা আমরা নাক ডাকা হিসেবে চিনি।


এর পাশাপাশি, ভিটামিন ডি কম থাকলে শরীরে প্রদাহ বা ভেতরের ফোলাভাব বাড়তে পারে। এই প্রভাব নাক ও গলার ভেতরেও পড়ে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয় এবং নাক ডাকার প্রবণতা বেড়ে যায়। শুধু নাক ডাকা নয়, এর সঙ্গে আরো কিছু উপসর্গও দেখা দিতে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে সারা দিন অকারণ ক্লান্তি লাগা, ঘুম ঠিকমতো না হওয়া, পেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা, বারবার সর্দি-কাশি হওয়া, এমনকি মন খারাপ বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।


এই ঘাটতি পূরণ করবেন কিভাবে

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকা শরীরের জন্য উপকারী। খাদ্যতালিকায় ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ ও মাশরুম রাখলেও উপকার মেলে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে।


যদি নিয়মিত নাক ডাকার সমস্যা থাকে, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় বা সকালে উঠে অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগে, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর অভ্যাস নয়, অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরের কোনো পুষ্টির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। ভিটামিন ডি-এর অভাব তার মধ্যে একটি সম্ভাব্য কারণ। তাই ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে শুধু বাহ্যিক কারণ নয়, শরীরের পুষ্টিগত দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

28/01/2026

ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে যা হয়


সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শরীরের প্রথম ও জরুরি চাহিদা হলো পানি। সারা রাত ঘুমের সময় শরীর খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করলেও শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘাম, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য পদার্থ বের হওয়ার মতো প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।


পুষ্টিবিদদের মতে, ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। সকালে উঠেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে শরীরের তরলের ভারসাম্য ঠিক হয়। এতে ব্রেন ফগ কমে, ঝিমুনি কাটে এবং মনোযোগ বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়ার আগে পানি খেলে মনোসংযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে।


ঘুমের সময় শরীরে কোনো খাবার বা পানীয় না ঢুকলেও দেহের ভেতরের কাজ থেমে থাকে না। শ্বাস নেওয়া, রক্তসঞ্চালন, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিষাক্ত পদার্থ বের করার জন্য শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই সকালে পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা বা অলস ভাব দেখা দিতে পারে।

 

সকালে পানি খাওয়ার যে উপকারিতা রয়েছেঃ

▶▶ রাতে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণ করে শরীরকে আবার কর্মক্ষম করে তোলে। 

▶▶ পানি খেলে অন্ত্রে স্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হয়, ফলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে।

▶▶ অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী এক ঘণ্টার জন্য বিপাকীয় হার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

▶▶ শরীরের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়, কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ কমে।


সকালে পানি খেলে মন ও শরীরে যা ঘটেঃ

▶▶ ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। 

▶▶ নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। 

▶▶ সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে।


সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে।


ঘুম থেকে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস পানি পানই যথেষ্ট। খুব ঠাণ্ডা বা খুব গরম পানি নয়—স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সামান্য উষ্ণ পানি শরীর সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে। প্রতিদিন এই ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।

-সংগৃহীত ।

27/01/2026

থাইরয়েড গ্রন্থির বিভিন্ন অসুখ

ছবিঃ সংগৃহীত ।

থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের গলার সামনের দিকে  অবস্থান। এই গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন সহ বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ হয়। এসব হরমোন আমাদের শরীরে নানা রকম গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। বিপাক ক্রিয়ায় এসব হরমোনের বেশ বড় ভূমিকা রয়েছে।


তবে এই থাইরয়েড গ্রন্থিতে জন্ম থেকে শুরু করে যে কোন বয়সে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে কম হরমোন নিঃসরণ হয় সেটাকে আমরা হাইপোথাইরয়েডিজম বলি। এই ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্লান্ড থেকে সাধারনত কম পরিমাণ হরমোন তৈরী হয়। এরকম হরমোন শরীরে কম থাকলে আমাদের শরীরে নানা রকম প্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়।

এসব উপসর্গের মধ্যে আছে দুর্বলতা, ক্লান্তি , মানসিক হতাশা, শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া, ঘুম ঘুম ভাব হওয়া, ঠান্ডা বা শীত শীত লাগা, চামড়া ভারি ও শক্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। সবার যে সব পর্যায়ে আবার একই রকম সমস্যা হবে তা কিন্তু নয়। একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম সমস্যা দিয়ে শুরু হয় । তবে একজন দক্ষ চিকিৎসক রোগীকে দেখে ও পরীক্ষা করে কিছুটা হাইপোথাইরয়েডের আভাস পান।

এর জন্য বিভিন্ন রকম ল্যাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। রুগীর শরীরের হরমোন আসলে কমে গেছে কিনা বা কি কারনে কমেছে তার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে। পরীক্ষায় এই হরমোনগুলো মাপা যায় এবং বোঝা যায় যে তার শরীরে হরমোন কমে গেছে কিনা বা কমলে কি তার কারন। আর যদি দেখা যায় যে হরমোন কমে গেছে তখন কি কারণে হরমোন কমে গেছে সেটি বের করার চেষ্টা করা হয় ।

চিকিৎসার জন্য যেই হরমোনটা কম তার ওষুধ থাইরক্সিন খেয়ে যেতে হয়। এই ট্যাবলেট সাধারণত সকালে বাসি পেটে খেয়ে যেতে হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে খেতে হতে পারে। ৩ থেকে ৬ মাস পর পর আবার হরমোন পরীক্ষা করে দেখতে হয় যে শরীরে হরমোন ঠিক মত আছে কিনা। সবার জন্য কিন্তু চিকিৎসার ডোজ এক নয় কারো ক্ষেত্রে একটি ট্যাবলেট লাগে কারো ক্ষেত্রে দুইটি কারো ক্ষেত্রে তিনটি কারো ক্ষেত্রে চার-পাঁচটি লাগতে পারে। কতটুকু চিকিৎসা লাগবে সেটা একজন চিকিৎসক বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ঠিক করবেন। অন্যেরটা দেখে বা দোকানদারের কথায় বাড়ানো কমানো বা বন্ধ করে দেয়া বিপদজনক। আমাদের দেশে রুগীদের বিপদ ডেকে আনতে স্বল্প শিক্ষিত দোকানদাররা বা হাতুরে ডাক্তাররা হরমোনের, উচ্চ রক্তচাপের, ডায়াবেটিসের, হাঁপানীর, হার্টের বিভিন্ন ওষুধ কমিয়ে বাড়িয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।

থাইরয়েড গ্রন্থিতে আরেকটি বড় সমস্যা দেখা যায়। সেটা হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে বেশি বেশি হরমোন নিঃসরণ হয়। গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণ যদি বেড়ে যায় তখন আবার নানারকম উপসর্গ দেখা যায়। এর ফলে শরীরে অস্থিরতা জাগে। বুক ধরফর করে। পাতলা পায়খানা হয় এবং মাসিকে অনিয়ম হয়। শরীরের ওজন কমে গিয়ে শুকিয়ে যেতে থাকে। হাত পা কাঁপতে থাকে এবং ঘাম হয়। এবং অনেকে এই তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। এক্ষেত্রে হরমোন টেস্ট করলে রোগটি ধরা পড়ে এবং তারপরে হরমোন কমানোর জন্য বিভিন্ন ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়। এই ক্ষেত্রে কখনও কখনও রেডিওথেরাপি এবং সার্জারির কিছু ভূমিকা আছে। তবে কার জন্য কি চিকিৎসা লাগবে সেটা একজন চিকিৎসককে দেখিয়ে ঠিক করবেন।

থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে বিভিন্ন ক্যান্সারও হতে পারে। সবচেয়ে বেশি যে ক্যান্সার দেখা যায় সেটা হচ্ছে প্যাপিলারি কার্সিনোমা। এই ক্যান্সারের ভালো চিকিৎসা আছে। এছাড়া ফলিকুলার কার্সিনোমা এবং এনাপ্লাস্টিক কার্সিনোমাও হয়। এদের মধ্যে আনাপ্লাস্টিক সবচেয়ে খারাপ ক্যান্সার। আশার কথা হচ্ছে বিভিন্ন ক্যান্সারের ভালো চিকিৎসা এখন আমাদের দেশে আছে এবং এগুলো বেশ সহজে চিকিৎসা করা সম্ভব।

থাইরয়েডের মধ্যে অনেক সময়ে কারও কারও প্রদাহ হতে পারে। একে থাইরয়েডাইটিস বলে। বিভিন্ন ইনফেকশনের কারণে এই প্রদাহ হয়। বিভিন্ন ভাইরাস এর জন্য দায়ী। ফলে হরমোনের তারতম্যের সৃষ্টি হয়। তবে সাধারণত এগুলো ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন হরমোন ওষুধ খেতে হয় না।

থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে সেটাকে আমরা গয়টার বলি। এটা হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে আয়োডিনের অভাব। আয়োডিনের অভাবে গয়টার হয়। গয়টার হলে অনেক সময় গলায় ব্যথা হয় গলাতে ফোলাভাব থাকে এবং কারও কারও খাবার গিলতেও সমস্যা হয়। কাশি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তবে এরও ভালো চিকিৎসা আছে। এরকম হলে একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এর পরামর্শ নেবেন।

তাই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন অসুখ থাইরয়েড গ্লান্ডে হতে পারে। সবকিছু নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। আশা করি সবারই থাইরয়েড এর বিভিন্ন অসুখ সম্বন্ধে একটা ধারণা সৃষ্টি হল। এসবের কোন লক্ষন বা সন্দেহ হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

-সংগৃহীত ।

26/01/2026

অতিরিক্ত প্রোটিনে বাড়ে যে ঝুঁকি

ছবিঃ সংগৃহীত ।

প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের সুপারিশ অনুসারে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা শরীরের ওজনের ভিত্তিতে প্রতি কেজিতে ০.৮ গ্রাম বা প্রতি পাউন্ডে ০.৩৬ গ্রাম হওয়া উচিত।


অথচ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেশির ভাগ আমেরিকান প্রতিদিন তাদের প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন। হিউস্টন মেথডিস্ট হাসপাতালের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ নুবিয়ান গ্যাটলিন বলেন, ‘শরীরের প্রতি পাউন্ডে এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের ধারণাটি অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘এত বেশি প্রোটিন গ্রহণ করলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও পেটব্যথার মতো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।’


তিনি আরো উল্লেখ করেন, নিয়মিত ব্যায়াম করা ব্যক্তি বা ক্রীড়াবিদদের জন্য সাধারণত এত বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন নেই। মায়ো ক্লিনিক অনুযায়ী, শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের জন্য দৈনিক শরীরের প্রতি কেজিতে ১.১ থেকে ১.৫ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ যথেষ্ট।


বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হজমজনিত সমস্যা। মাংস ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হজম করতে শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যার ফলে ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা এবং পেটব্যথা হতে পারে।


এ ছাড়া, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিটো ব্রেথ নামক একটি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কিটোসিস অবস্থায় শরীর শক্তির জন্য গ্লুকোজের বদলে চর্বি পোড়াতে শুরু করে, ফলে অ্যাসিটোন তৈরি হয়, যার ফলে নিঃশ্বাসে ফলের মতো বা নেইল পলিশের মতো গন্ধ আসতে পারে।


হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও অতিরিক্ত প্রোটিন ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষত যদি খাদ্যতালিকায় লাল মাংস ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ে। এতে ধমনীতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমে, যা হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো ফেনাযুক্ত প্রস্রাব।


অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে প্রস্রাবে বিয়ারের ফেনার মতো বুদবুদ দেখা দিতে পারে, যা কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. সিবেল ঘোসেইন বলেন, কিডনির কাজ হলো প্রোটিন শরীরে ধরে রাখা। যদি প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়, তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে কিডনি সঠিকভাবে কাজ করছে না। চিকিৎসকরা বলেন, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন গ্রহণই সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।

-সংগৃহীত ।

25/01/2026

পায়ের যে লক্ষণে লুকিয়ে থাকে মারাত্মক রোগের ইঙ্গিত


যে কোনও রোগ শনাক্ত করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। শরীরে রোগ বাসা বাঁধার সঙ্গে সঙ্গে তার লক্ষণ বিভিন্ন অঙ্গে প্রকাশ পেতে শুরু করে। বিশেষ করে পায়ের স্বাস্থ্য অনেক সময় পুরো শরীরের শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। পায়ের ছোটখাটো উপসর্গও যদি উপেক্ষা করা হয়, তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

পায়ের মাধ্যমে শরীরের শারীরিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিচের লক্ষণগুলোকে অগ্রাহ্য করা বিপজ্জনক হতে পারে।


পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে ফোলা সাধারণভাবে ‘ফ্লুইড রিটেনশন’ নামে পরিচিত। এটি হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের অভাবের কারণে ও পায়ে ফোলা দেখা দিতে পারে। ফোলাভাব কমাতে পা কিছুক্ষণ উঁচু করে রাখা, খাবারে নুনের পরিমাণ কমানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী।


পা বা গোড়ালিতে ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এটি আঘাত, আর্থ্রাইটিস, স্নায়ু সমস্যা বা স্ট্রেস ফ্র্যাকচার ও অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণ হতে পারে। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পেশীতে টান ও জয়েন্টে ব্যথার কারণ হতে পারে। এছাড়া অপর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহও পায়ে ব্যথার অন্যতম কারণ।

পায়ের অসাড়তা বা ঝিনঝিন হওয়া স্নায়ুর ক্ষতি বা ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’-র ইঙ্গিত দেয়। ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, কেমোথেরাপি বা ভিটামিন বি-১২ ও ভিটামিন ই-এর অভাবও এ সমস্যার কারণ হতে পারে।


ঘন ঘন পায়ে খিঁচুনি হলে তা জলশূন্যতা বা ম্যাগনেশিয়ামের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য এই খনিজ পদার্থ অপরিহার্য। প্রচুর পানি পান, পুষ্টি ও খনিজ সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ এবং পা ম্যাসাজ ও হালকা স্ট্রেচিং করা উপকারী।

গোড়ালি ব্যথা বা প্লান্টার ফ্যাসাইটিস সাধারণ হলেও ক্রমাগত ব্যথা থাকলে তা গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। ভিটামিন ডি-এর অভাব, ভুল জুতা, অতিরিক্ত ওজন বা অতিরিক্ত পরিশ্রম গোড়ালি ব্যথার সম্ভাব্য কারণ।


ঠান্ডা পা শুধু শীতকালের সমস্যা নয়। এটি রক্ত সঞ্চালন দুর্বলতা, পুষ্টি অভাব, থাইরয়েড সমস্যা বা অনিয়মিত জীবনধারার কারণে হতে পারে। খাদ্যতালিকায় আয়রন ও থাইরয়েড সমৃদ্ধ খাবার রাখা এবং ইনসুলেটেড জুতা ও মোজা ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।


গোড়ালির ত্বক ফাটা শুধু শুষ্ক ত্বকের কারণে নয়। ভিটামিন এ, জিঙ্ক ও ওমেগা-৩-এর অভাব, ডায়াবেটিস এবং একজিমা এই সমস্যাকে তীব্র করতে পারে। খালি পায়ে হাঁটা বা ভুল জুতা ব্যবহার এ সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত গোড়ালিতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ও আরামদায়ক জুতা পরা সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে।


শরীরের সংকেতগুলোকে উপেক্ষা না করে সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও জীবনধারার পরিবর্তন গ্রহণ করলে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পায়ের প্রতি সচেতন থাকা মানে আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা।

-সংগৃহীত ।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...