24/02/2026

শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা বাংলাদেশিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুঁড়িতে হোটেলে অবস্থানে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সেখানকার হোটেল মালিকরা। 

সোমবার গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (জিএসএইচডব্লিউএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন শিলিগুঁড়ির হোটেল মালিকরা। পরে ভিসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তা পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অ্যাসোসিয়েশন প্রাথমিকভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল; যা ভিসা কেন্দ্র বন্ধের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য হোটেলে অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার পর্যায়ে পৌঁছায়।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় শিলিগুঁড়ির হোটেলগুলোতে এখন কক্ষ বুকিং করতে পারবেন  বাংলাদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। 

বিবৃতিতে জিএসএইচডব্লিউএ বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুঁড়িজুড়ে সদস্যভুক্ত হোটেলগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবস্থান করা সংক্রান্ত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ওই দিন তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনের অবসান ঘটে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পর গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সদস্য হোটেল মালিকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটাভুটির আয়োজন করে। ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য পুনরায় বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল বুকিং শুরু করার পক্ষে মত দেন।

জিএসএইচডব্লিউএ বিবৃতিতে বলেছে, দুই দেশের সরকার সীমান্ত পারাপারের বিধিনিষেধ শিথিল করায় অ্যাসোসিয়েশন উভয় দেশের সীমান্তসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে পারস্পরিক সদিচ্ছার বিষয়টি স্বীকার করছে।

অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশি অতিথিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও জোর দিয়ে বলেছে, ভারতের নিরাপত্তা ও মর্যাদা সবার আগে। ভবিষ্যতে কোনো অসম্মানজনক কিংবা উসকানিমূলক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তারা দ্বিধা করবে না বলেও সতর্ক করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে যে, দেশই সবার আগে। ভবিষ্যতে আমাদের দেশের প্রতি কোনও অসম্মান বা উসকানিমূলক বক্তব্যের ঘটনা ঘটলে আমরা আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।

-সংগৃহীত ।

অ্যাসপিরিন নিয়ে যেসব ভুল ধারণায় হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি


আমাদের নিকট অ্যাসপিরিন খুবই পরিচিত একটি ওষুধ। মাথাব্যথা বা শরীরব্যথা থেকে শুরু করে স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগীদের কাছে এটি ‘জীবন রক্ষাকারী’ ওষুধ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই যথেচ্ছ অ্যাসপিরিন সেবন আপনার জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তবে, অ্যাসপিরিন নিয়ে রয়েছে নানা ভুল ধারণা বা মিথ।


ভুল ধারণা ১ ।  বয়স ৪০ হলেই নিয়মিত অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিতঃ

আমাদের অনেকের ধারণা, বয়স ৪০ বা ৫০ পার হলেই হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোক ঠেকাতে প্রতিদিন স্বল্প মাত্রার অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিত। এটি একটি ভুল ধারণা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের আগে কখনো হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবন উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। এটি শরীরে, বিশেষ করে পাকস্থলী বা মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।


ভুল ধারণা ২ ।  বুকে যেকোনো ব্যথা হলেই অ্যাসপিরিন মহৌষধঃ

এখানে আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, বুকে সামান্য অস্বস্তি বা ব্যথা হলেই দ্রুত অ্যাসপিরিন খেয়ে নেওয়া ভালো। বুকে ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়। গ্যাস্ট্রিকের আলসার বা ফুসফুসের জটিলতায়ও বুকে ব্যথা হতে পারে। এমন অবস্থায় না বুঝে অ্যাসপিরিন খেলে পাকস্থলীতে মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।


ভুল ধারণা ৩ ।  শিশুদের জন্য এটি নিরাপদ ব্যথানাশকঃ

আমাদের অনেকেই শিশুদের জ্বর বা ব্যথায় অনেক সময় বড়দের এই ওষুধ ভেঙে খাইয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ভাইরাসজনিত জ্বরের সময় শিশুদের অ্যাসপিরিন দিলে ‘রেইস সিনড্রোম’ নামের এক বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও লিভারের স্থায়ী ক্ষতি করে।


মুল কথা হলঃ  অ্যাসপিরিন মূলত রক্ত পাতলা করে। যাঁদের একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তাঁদের জন্য এটি অপরিহার্য হতে পারে। কিন্তু একজন সুস্থ মানুষের এটি নিয়মিত সেবন করার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, ওষুধ যখন জীবন বাঁচায়, ভুল ব্যবহারে তা জীবন কেড়েও নিতে পারে। তাই রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যার কথা ভেবে নিজে নিজেই অ্যাসপিরিন শুরু করবেন না। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

23/02/2026

জন্ডিস হলে কখন সার্জারি প্রয়োজন?


জন্ডিস একটি সাধারণ পরিচিত রোগ।আমাদের এমন কোন পরিবার নেই যাদের কারো না কারো এই রোগ হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগ আপনা আপনি সেরে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস ভাল হয়না যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া।আজকে কখন এই রোগের জন্য অবশ্যই সার্জনের পরামর্শ নেবেন সেই বিষয়ে আলোকপাত করব।


🔷 জন্ডিস কী?

জন্ডিস (Jaundice) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চোখের সাদা অংশ, ত্বক ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়। এটি নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের

ভেতরের সমস্যার একটি লক্ষণ।


🔷 জন্ডিসের প্রধান কারণগুলো কী?

জন্ডিস সাধারণত তিন ধরনের কারণে হয়-

১. লিভারের সমস্যা (হেপাটাইটিস, সিরোসিস)

২. রক্তের সমস্যা (হিমোলাইসিস)

৩. পিত্তনালীর সমস্যা (গলস্টোন, টিউমার, পিত্তনালীর সংকোচন)


🔷 জন্ডিস হলেই কি সার্জারি প্রয়োজন?

অধিকাংশ জন্ডিসে সার্জারির প্রয়োজন হয় না। তবে যদি জন্ডিসের কারণ হয় পিত্তনালীর

যান্ত্রিক বাধা (Obstructive jaundice), তখন অনেক ক্ষেত্রে সার্জারি বা এন্ডোস্কোপিক

চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।


🔷 কোন ধরনের জন্ডিসে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে?

নিচের অবস্থাগুলোতে সার্জারি বা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে—

১. পিত্তনালীতে পাথর (CBD stone)

২. গলব্লাডারের পাথর থেকে জন্ডিস

৩. পিত্তনালীর ক্যান্সার

৪. প্যানক্রিয়াসের টিউমার

৫. পিত্তনালীর জন্মগত সংকোচন


🔷 গলস্টোনের কারণে জন্ডিস হলে কী চিকিৎসা লাগে?

১. প্রথমে ঊজঈচ করে পিত্তনালী থেকে পাথর বের করা হয়

২. এরপর উপযুক্ত সময়ে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি (গলব্লাডার অপারেশন) করা হয়


🔷 ক্যান্সারের কারণে জন্ডিস হলে কি অপারেশন সম্ভব?

১. যদি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তাহলে সার্জারির মাধ্যমে আরোগ্য লাভ সম্ভব

২. দেরিতে ধরা পড়লে প্যালিয়েটিভ সার্জারি বা স্টেন্টিং করে জন্ডিস ও কষ্ট কমানো হয়।


🔷 কোন লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত সার্জনের কাছে যেতে হবে?

১. চোখ ও ত্বক বেশি হলুদ হওয়া

২. প্রস্রাব গাঢ় হলুদ, পায়খানা ফ্যাকাশে

৩. চুলকানি

৪. ওজন কমে যাওয়া

৫. জ্বরসহ জন্ডিস

৬. পেট ফুলে যাওয়া।

মনে রাখবেন প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে যেসব ক্ষেত্রে সার্জারি প্রয়োজন অবশ্যই সার্জারি ই আপনাকে রোগ মুক্তি দেবে।কাজেই ভয় নয়,সচেতন হোন।রোগ নিয়ে হেলাফেলা নয়।

-সংগৃহীত ।

22/02/2026

ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করার উপায়


রমজানের কয়েক দিন যেতেই সারা দিন ভালো থাকলেও ইফতারের পর শরীর ভীষণ ভারী হয়ে আসে, চোখে ঘুম নামে আর পেটে অস্বস্তি শুরু হয়। অনেকেই একে রোজার ক্লান্তি মনে করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এর আসল কারণ আমাদের অন্ত্র বা গাট হেলথের ভারসাম্যহীনতা।


মানুষের পরিপাকতন্ত্রে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যাদের বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োটা। এরা শুধু খাবার হজমই করে না, শরীরের ৭০ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করে।


এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলেই পেট ফাঁপা, এসিডিটি বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।


কেন ইফতারের পর শরীর খারাপ লাগে?

সারা দিন বিরতির পর ইফতারে যখন আমরা একসাথে অনেক ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা ভারী খাবার খাই, তখন পাকস্থলী হঠাৎ চাপে পড়ে যায়। দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে খাবার স্বাভাবিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাস ও প্রদাহ তৈরি করে। ফলে পেট শক্ত হয়ে যায় এবং শরীর নিস্তেজ লাগে।


পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে গেলে শরীর খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে পেট ভরে খেয়েও আপনি দুর্বল বোধ করেন।


রোজা কি শরীরের ক্ষতি করে?

না, বরং রোজা অন্ত্রের জন্য একটি ক্লিনিং প্রসেস বা পরিষ্কার অভিযান। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় অন্ত্র বাড়তি ব্যাকটেরিয়া ও জমে থাকা খাদ্যকণা সরিয়ে নিজেকে সতেজ করার সুযোগ পায়।


কিন্তু ভুল খাদ্যাভ্যাস এই সুযোগকে নষ্ট করে দেয়। সুস্থ থাকার ৫টি সহজ উপায়ঃ

১। ধীরগতিতে শুরুঃ খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি খাবেন না।

২। হালকা খাবারঃ শুরুতে স্যুপ বা ফলজাতীয় হালকা খাবার বেছে নিন। ভাজাপোড়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৩। প্রোবায়োটিক যুক্ত করুনঃ দই বা এ জাতীয় খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।

৪। সাহরিতে সচেতনতাঃ সাহরিতে আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, লাল চাল) এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৫। মনোযোগ দিয়ে চিবিয়ে খাওয়াঃ খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেলে হজমের কষ্ট অর্ধেক কমে যায়।

রমজান শরীরকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। একটু সচেতন হয়ে অন্ত্রের যত্ন নিলে রোজা হবে ক্লান্তির বদলে প্রাণবন্ত ও স্বস্তিদায়ক।

-সংগৃহীত ।

19/02/2026

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের ওষুধের মাত্রা ও সময়সূচি পরিবর্তন


দুই একদিন পরই মাহে রমজান। এ সময় মুসলিম ধর্মাবলম্বী ডায়াবেটিস রোগীদের (যারা রোজা রাখেন) ওষুধের মাত্রা ও সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়।


* রক্ত পরীক্ষার আদর্শ সময়ঃ

দৈনিক অন্তত ৩ থেকে ৪ বার (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য আরও বেশি) ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত।

🔷► সেহরির আগে : সেহরি খাওয়ার ঠিক আগে (ওষুধের ডোজ ঠিক করতে)।

🔷► সকালে : সেহরির ২ ঘণ্টা পর।

🔷► দুপুর ও বিকালে : বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে এবং বিকাল ৪টার দিকে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বোঝার জন্য)।

🔷► ইফতারের ঠিক আগে : ইফতারের অল্প সময় আগে।

🔷► ইফতারের পর : ইফতার করার ২ ঘণ্টা পর।

🔷► অসুস্থ বোধ করলে : যে কোনো সময় যদি শরীর খারাপ লাগে, মাথা ঘোরে বা অতিরিক্ত ঘাম হয়।

* কখন রোজা দ্রুত ভেঙে ফেলতে হবেঃ

সুগার পরীক্ষার ফল যদি নিচের মতো হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত রোজা ভেঙে ফেলা জরুরি।

🔷► সুগার খুব কমে গেলে : 3.9 mmol/L (70 mg/dL)-এর নিচে হলে।

🔷► সুগার খুব বেড়ে গেলে : 16.6 mmol/L (300 mg/dL)-এর বেশি হলে।

🔷► মারাত্মক অসুস্থতা : প্রচণ্ড পানিশূন্যতা, বমি বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হলে।

* রোজার সময় ওষুধঃ

🔷► একবার গ্রহণের ওষুধ : যদি কোনো ওষুধ দিনে একবার নিতে হয়, তবে সাধারণত তা ইফতারের সময় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

🔷► একাধিকবার গ্রহণের ওষুধ : দিনে দুইবার বা তিনবার গ্রহণের ক্ষেত্রে, ইফতার এবং সেহরির সময়ের মধ্যে মাত্রা ভাগ করে নেওয়া। এক্ষেত্রে সকালের মাত্রা ইফতারে এবং রাতের মাত্রা সেহরিতে নেওয়া হয়, অথবা মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়।

🔷► মেটফর্মিন (Metformin) : সাধারণত এটি সেহরি ও ইফতারের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে অথবা বেশির ভাগ মাত্রা ইফতারে নেওয়া হয়।

🔷► সালফোনাইলইউরিয়া, ইনসুলিন : এ ওষুধগুলো হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এগুলোর মাত্রা কমানো বা সময় পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।

🔷► ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইফতারের আগে স্বাভাবিক মাত্রা এবং সেহরির আগে কম মাত্রা বা অর্ধেক মাত্রা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

- সংগৃহীত ।

18/02/2026

ইফতারে যা খেলে স্বস্তি পাবেন

রোজার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ভাজাপোড়া জাতীয় জিনিস খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলেন, মৌসুমি ফল রাখুন প্রথম সারিতে। কারণ মৌসুমি ফল শুধু টাটকাই নয়, এগুলো সহজপাচ্য, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে।


ইফতারের টেবিলে এক বাটি মৌসুমি ফল রাখতে পারলেই মিলবে স্বস্তি, পুষ্টি ও সতেজতা—তিনটিই একসঙ্গে।দেশের বাজারে উঠতে শুরু করেছে গ্রীষ্মের আগাম ফল। এ সময়ের সহজলভ্য কিছু ফল ইফতারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।


তরমুজঃ

প্রায় ৯০ শতাংশ পানি সমৃদ্ধ তরমুজ সারা দিনের পানিশূন্যতা কাটাতে কার্যকর। এতে থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ইফতারে ১-২ টুকরো তরমুজ শরীরকে দ্রুত রিহাইড্রেট করে এবং সতেজ অনুভূতি দেয়।


কলাঃ

সহজলভ্য ও শক্তিদায়ক ফল কলা। এতে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং পেশির দুর্বলতা কমায়। একটি মাঝারি আকারের কলা ইফতারে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।


পেঁপেঃ

হজমে সহায়ক এনজাইমসমৃদ্ধ পেঁপে দীর্ঘ সময় না খাওয়ার পর পেটের জন্য আরামদায়ক। এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক।


আনারসঃ

ভিটামিন সি ও ব্রোমেলিন এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস হজমে সাহায্য করে। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।


ডাবের পানি ও মাল্টাঃ

ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের উৎস, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে কার্যকর। মাল্টা বা কমলালেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

-সংগৃহীত ।

17/02/2026

বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল




শুরু হতে যাচ্ছে মুসলিমদের সিয়াম-সাধনার মাস পবিত্র রমজান মাস। বিভিন্ন দেশের রোজা শুরুর সম্ভাব্য দিন-তারিখ প্রকাশিত হয়েছে। সৌদি আরবে রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অথবা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)। চাঁদ দেখার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।


সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোজা শুরুর পরের দিন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রোজা শুরু হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশে রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামী বৃহস্পতিবার  (১৯ ফেব্রুয়ারি) অথবা এর পরের দিন শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি)। ২০ ফেব্রুয়ারি রমজানের প্রথম দিন এবং ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে হিলাল বা চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রমজান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।


শাবান মাসের ২৯তম রাতে সূর্যাস্তের পর বিভিন্ন কমিটি আকাশ পর্যবেক্ষণ করে। চাঁদ দেখা গেলে পরদিন থেকে রমজান শুরু হয়, না দেখা গেলে শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ করা হয়। দুই দেশের বিভিন্ন শহরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বাস্তব চাঁদ দেখার জন্য অপেক্ষা করা হয়। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অমাবস্যা।


তবে খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেশি। সে ক্ষেত্রে প্রথম রোজা ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হতে পারে। তবে কোথাও আগে চাঁদ দেখা গেলে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই রোজা শুরু হতে পারে। আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। একইভাবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান শেষ হতে পারে ১৯ অথবা ২০ মার্চ।


ইসলামী চন্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, রমজানের সূচনা নির্ধারিত হয় হিলাল বা অর্ধচন্দ্র দেখার মাধ্যমে। সৌদি আরবসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বহু দেশ চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, কিছু দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ওপর নির্ভর করে চাঁদের অবস্থান নির্ধারণ করে থাকে।


বাংলাদেশে চাঁদ দেখা কমিটি প্রতিবছর চাঁদ দেখার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রোজা শুরুর বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে থাকে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে তাদের ঘোষণার পর থেকে দেশে রোজা পালন শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।

-সংগৃহীত ।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...