23/02/2026

জন্ডিস হলে কখন সার্জারি প্রয়োজন?


জন্ডিস একটি সাধারণ পরিচিত রোগ।আমাদের এমন কোন পরিবার নেই যাদের কারো না কারো এই রোগ হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগ আপনা আপনি সেরে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস ভাল হয়না যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া।আজকে কখন এই রোগের জন্য অবশ্যই সার্জনের পরামর্শ নেবেন সেই বিষয়ে আলোকপাত করব।


🔷 জন্ডিস কী?

জন্ডিস (Jaundice) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চোখের সাদা অংশ, ত্বক ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়। এটি নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের

ভেতরের সমস্যার একটি লক্ষণ।


🔷 জন্ডিসের প্রধান কারণগুলো কী?

জন্ডিস সাধারণত তিন ধরনের কারণে হয়-

১. লিভারের সমস্যা (হেপাটাইটিস, সিরোসিস)

২. রক্তের সমস্যা (হিমোলাইসিস)

৩. পিত্তনালীর সমস্যা (গলস্টোন, টিউমার, পিত্তনালীর সংকোচন)


🔷 জন্ডিস হলেই কি সার্জারি প্রয়োজন?

অধিকাংশ জন্ডিসে সার্জারির প্রয়োজন হয় না। তবে যদি জন্ডিসের কারণ হয় পিত্তনালীর

যান্ত্রিক বাধা (Obstructive jaundice), তখন অনেক ক্ষেত্রে সার্জারি বা এন্ডোস্কোপিক

চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।


🔷 কোন ধরনের জন্ডিসে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে?

নিচের অবস্থাগুলোতে সার্জারি বা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে—

১. পিত্তনালীতে পাথর (CBD stone)

২. গলব্লাডারের পাথর থেকে জন্ডিস

৩. পিত্তনালীর ক্যান্সার

৪. প্যানক্রিয়াসের টিউমার

৫. পিত্তনালীর জন্মগত সংকোচন


🔷 গলস্টোনের কারণে জন্ডিস হলে কী চিকিৎসা লাগে?

১. প্রথমে ঊজঈচ করে পিত্তনালী থেকে পাথর বের করা হয়

২. এরপর উপযুক্ত সময়ে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি (গলব্লাডার অপারেশন) করা হয়


🔷 ক্যান্সারের কারণে জন্ডিস হলে কি অপারেশন সম্ভব?

১. যদি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তাহলে সার্জারির মাধ্যমে আরোগ্য লাভ সম্ভব

২. দেরিতে ধরা পড়লে প্যালিয়েটিভ সার্জারি বা স্টেন্টিং করে জন্ডিস ও কষ্ট কমানো হয়।


🔷 কোন লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত সার্জনের কাছে যেতে হবে?

১. চোখ ও ত্বক বেশি হলুদ হওয়া

২. প্রস্রাব গাঢ় হলুদ, পায়খানা ফ্যাকাশে

৩. চুলকানি

৪. ওজন কমে যাওয়া

৫. জ্বরসহ জন্ডিস

৬. পেট ফুলে যাওয়া।

মনে রাখবেন প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে যেসব ক্ষেত্রে সার্জারি প্রয়োজন অবশ্যই সার্জারি ই আপনাকে রোগ মুক্তি দেবে।কাজেই ভয় নয়,সচেতন হোন।রোগ নিয়ে হেলাফেলা নয়।

-সংগৃহীত ।

22/02/2026

ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করার উপায়


রমজানের কয়েক দিন যেতেই সারা দিন ভালো থাকলেও ইফতারের পর শরীর ভীষণ ভারী হয়ে আসে, চোখে ঘুম নামে আর পেটে অস্বস্তি শুরু হয়। অনেকেই একে রোজার ক্লান্তি মনে করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এর আসল কারণ আমাদের অন্ত্র বা গাট হেলথের ভারসাম্যহীনতা।


মানুষের পরিপাকতন্ত্রে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যাদের বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োটা। এরা শুধু খাবার হজমই করে না, শরীরের ৭০ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করে।


এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলেই পেট ফাঁপা, এসিডিটি বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।


কেন ইফতারের পর শরীর খারাপ লাগে?

সারা দিন বিরতির পর ইফতারে যখন আমরা একসাথে অনেক ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা ভারী খাবার খাই, তখন পাকস্থলী হঠাৎ চাপে পড়ে যায়। দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে খাবার স্বাভাবিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাস ও প্রদাহ তৈরি করে। ফলে পেট শক্ত হয়ে যায় এবং শরীর নিস্তেজ লাগে।


পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে গেলে শরীর খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে পেট ভরে খেয়েও আপনি দুর্বল বোধ করেন।


রোজা কি শরীরের ক্ষতি করে?

না, বরং রোজা অন্ত্রের জন্য একটি ক্লিনিং প্রসেস বা পরিষ্কার অভিযান। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় অন্ত্র বাড়তি ব্যাকটেরিয়া ও জমে থাকা খাদ্যকণা সরিয়ে নিজেকে সতেজ করার সুযোগ পায়।


কিন্তু ভুল খাদ্যাভ্যাস এই সুযোগকে নষ্ট করে দেয়। সুস্থ থাকার ৫টি সহজ উপায়ঃ

১। ধীরগতিতে শুরুঃ খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি খাবেন না।

২। হালকা খাবারঃ শুরুতে স্যুপ বা ফলজাতীয় হালকা খাবার বেছে নিন। ভাজাপোড়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৩। প্রোবায়োটিক যুক্ত করুনঃ দই বা এ জাতীয় খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।

৪। সাহরিতে সচেতনতাঃ সাহরিতে আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, লাল চাল) এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৫। মনোযোগ দিয়ে চিবিয়ে খাওয়াঃ খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেলে হজমের কষ্ট অর্ধেক কমে যায়।

রমজান শরীরকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। একটু সচেতন হয়ে অন্ত্রের যত্ন নিলে রোজা হবে ক্লান্তির বদলে প্রাণবন্ত ও স্বস্তিদায়ক।

-সংগৃহীত ।

19/02/2026

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের ওষুধের মাত্রা ও সময়সূচি পরিবর্তন


দুই একদিন পরই মাহে রমজান। এ সময় মুসলিম ধর্মাবলম্বী ডায়াবেটিস রোগীদের (যারা রোজা রাখেন) ওষুধের মাত্রা ও সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়।


* রক্ত পরীক্ষার আদর্শ সময়ঃ

দৈনিক অন্তত ৩ থেকে ৪ বার (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য আরও বেশি) ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত।

🔷► সেহরির আগে : সেহরি খাওয়ার ঠিক আগে (ওষুধের ডোজ ঠিক করতে)।

🔷► সকালে : সেহরির ২ ঘণ্টা পর।

🔷► দুপুর ও বিকালে : বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে এবং বিকাল ৪টার দিকে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বোঝার জন্য)।

🔷► ইফতারের ঠিক আগে : ইফতারের অল্প সময় আগে।

🔷► ইফতারের পর : ইফতার করার ২ ঘণ্টা পর।

🔷► অসুস্থ বোধ করলে : যে কোনো সময় যদি শরীর খারাপ লাগে, মাথা ঘোরে বা অতিরিক্ত ঘাম হয়।

* কখন রোজা দ্রুত ভেঙে ফেলতে হবেঃ

সুগার পরীক্ষার ফল যদি নিচের মতো হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত রোজা ভেঙে ফেলা জরুরি।

🔷► সুগার খুব কমে গেলে : 3.9 mmol/L (70 mg/dL)-এর নিচে হলে।

🔷► সুগার খুব বেড়ে গেলে : 16.6 mmol/L (300 mg/dL)-এর বেশি হলে।

🔷► মারাত্মক অসুস্থতা : প্রচণ্ড পানিশূন্যতা, বমি বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হলে।

* রোজার সময় ওষুধঃ

🔷► একবার গ্রহণের ওষুধ : যদি কোনো ওষুধ দিনে একবার নিতে হয়, তবে সাধারণত তা ইফতারের সময় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

🔷► একাধিকবার গ্রহণের ওষুধ : দিনে দুইবার বা তিনবার গ্রহণের ক্ষেত্রে, ইফতার এবং সেহরির সময়ের মধ্যে মাত্রা ভাগ করে নেওয়া। এক্ষেত্রে সকালের মাত্রা ইফতারে এবং রাতের মাত্রা সেহরিতে নেওয়া হয়, অথবা মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়।

🔷► মেটফর্মিন (Metformin) : সাধারণত এটি সেহরি ও ইফতারের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে অথবা বেশির ভাগ মাত্রা ইফতারে নেওয়া হয়।

🔷► সালফোনাইলইউরিয়া, ইনসুলিন : এ ওষুধগুলো হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এগুলোর মাত্রা কমানো বা সময় পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।

🔷► ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইফতারের আগে স্বাভাবিক মাত্রা এবং সেহরির আগে কম মাত্রা বা অর্ধেক মাত্রা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

- সংগৃহীত ।

18/02/2026

ইফতারে যা খেলে স্বস্তি পাবেন

রোজার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ভাজাপোড়া জাতীয় জিনিস খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলেন, মৌসুমি ফল রাখুন প্রথম সারিতে। কারণ মৌসুমি ফল শুধু টাটকাই নয়, এগুলো সহজপাচ্য, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে।


ইফতারের টেবিলে এক বাটি মৌসুমি ফল রাখতে পারলেই মিলবে স্বস্তি, পুষ্টি ও সতেজতা—তিনটিই একসঙ্গে।দেশের বাজারে উঠতে শুরু করেছে গ্রীষ্মের আগাম ফল। এ সময়ের সহজলভ্য কিছু ফল ইফতারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।


তরমুজঃ

প্রায় ৯০ শতাংশ পানি সমৃদ্ধ তরমুজ সারা দিনের পানিশূন্যতা কাটাতে কার্যকর। এতে থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ইফতারে ১-২ টুকরো তরমুজ শরীরকে দ্রুত রিহাইড্রেট করে এবং সতেজ অনুভূতি দেয়।


কলাঃ

সহজলভ্য ও শক্তিদায়ক ফল কলা। এতে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং পেশির দুর্বলতা কমায়। একটি মাঝারি আকারের কলা ইফতারে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।


পেঁপেঃ

হজমে সহায়ক এনজাইমসমৃদ্ধ পেঁপে দীর্ঘ সময় না খাওয়ার পর পেটের জন্য আরামদায়ক। এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক।


আনারসঃ

ভিটামিন সি ও ব্রোমেলিন এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস হজমে সাহায্য করে। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।


ডাবের পানি ও মাল্টাঃ

ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের উৎস, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে কার্যকর। মাল্টা বা কমলালেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

-সংগৃহীত ।

17/02/2026

বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল




শুরু হতে যাচ্ছে মুসলিমদের সিয়াম-সাধনার মাস পবিত্র রমজান মাস। বিভিন্ন দেশের রোজা শুরুর সম্ভাব্য দিন-তারিখ প্রকাশিত হয়েছে। সৌদি আরবে রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অথবা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)। চাঁদ দেখার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।


সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোজা শুরুর পরের দিন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রোজা শুরু হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশে রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামী বৃহস্পতিবার  (১৯ ফেব্রুয়ারি) অথবা এর পরের দিন শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি)। ২০ ফেব্রুয়ারি রমজানের প্রথম দিন এবং ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে হিলাল বা চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রমজান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।


শাবান মাসের ২৯তম রাতে সূর্যাস্তের পর বিভিন্ন কমিটি আকাশ পর্যবেক্ষণ করে। চাঁদ দেখা গেলে পরদিন থেকে রমজান শুরু হয়, না দেখা গেলে শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ করা হয়। দুই দেশের বিভিন্ন শহরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বাস্তব চাঁদ দেখার জন্য অপেক্ষা করা হয়। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অমাবস্যা।


তবে খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেশি। সে ক্ষেত্রে প্রথম রোজা ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হতে পারে। তবে কোথাও আগে চাঁদ দেখা গেলে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই রোজা শুরু হতে পারে। আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। একইভাবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান শেষ হতে পারে ১৯ অথবা ২০ মার্চ।


ইসলামী চন্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, রমজানের সূচনা নির্ধারিত হয় হিলাল বা অর্ধচন্দ্র দেখার মাধ্যমে। সৌদি আরবসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বহু দেশ চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, কিছু দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ওপর নির্ভর করে চাঁদের অবস্থান নির্ধারণ করে থাকে।


বাংলাদেশে চাঁদ দেখা কমিটি প্রতিবছর চাঁদ দেখার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রোজা শুরুর বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে থাকে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে তাদের ঘোষণার পর থেকে দেশে রোজা পালন শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।

-সংগৃহীত ।

10/02/2026

শিশুর জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হয় কেন


শিশুর জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে সবাই আতঙ্কিত হন। ধারণা করা হয়, নিশ্চয় মস্তিষ্কের কোনো জটিল রোগের লক্ষণ। কিন্তু ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি মস্তিষ্কের কোনো বড় রোগ ছাড়াও হতে পারে, যেটাকে বলা হয় ‘ফেব্রাইল সিজার’। এ ছাড়া আরও অনেক কারণে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হতে পারে, যেমন মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস, মস্তিষ্কে যক্ষ্মা ও মস্তিষ্কে পুঁজ বা ব্রেইন অ্যাবসেস। ফেব্রাইল সিজার কম বয়সী শিশুদের হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে রোগীর খিঁচুনি দেখা দেয়। কিছু জেনেটিক কারণ এবং বাচ্চার মস্তিষ্ক পরিণত না হওয়ায় এটি হয়ে থাকে।

ফেব্রাইল সিজার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় হলে থাকে না, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি মৃগীরোগে পরিবর্তিত হতে পারে। মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস রোগে জ্বর ও খিঁচুনির সঙ্গে চেতনা হারিয়ে ফেলতে পারে রোগী। যক্ষ্মা অনেক সময় মস্তিষ্ককেও আক্রান্ত করতে পারে। একে ‘সিএনএস টিবি’ বলে। পরিবারের কেউ বা নিকটাত্মীয় কারও এই রোগ থাকলে তাতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বাচ্চাদের কানপাকা রোগ থাকলে তা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একে ‘ব্রেইন অ্যাবসেস’ বলে।


পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও চিকিৎসাঃ

ফেব্রাইল সিজার রোগীর ইতিহাস শুনেই ডায়াগনোসিস করতে হয়। তেমন পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ইইজি পরীক্ষা করা যেতে পারে। মস্তিষ্কে প্রদাহ, টিবি বা ব্রেইন অ্যাবসেস রোগ নির্ণয়ে এমআরআই করা হয়।

জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। রোগীকে বাঁ কাত করে শুইয়ে দেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খিঁচুনি নিজে থেকেই থেমে যায়। তাই রোগীকে নিরাপদ রাখাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মুখে চামচ বা অন্য কোনো কিছু দেবেন না। এটা ভেঙে গিয়ে শ্বাসনালিতে চলে যেতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য শরীর স্পঞ্জ করা যেতে পারে। জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল সাপোজিটর মলদ্বারে দিতে পারেন। খিঁচুনি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।


শিশু অতি সক্রিয় বা বেশি চঞ্চল হলে করণীয় কীঃ

ফেব্রাইল সিজারের শিশুকে পরবর্তী সময়ে অল্প জ্বর এলেই (৫-৭) দিনের জন্য প্যারাসিটামল ও ডায়াজিপাম–জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো উচিত। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনির কারণ যদি মস্তিষ্কে প্রদাহ, টিবি বা ব্রেইন অ্যাবসেস রোগ হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো ও নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি এবং কিছু ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে।

-সংগৃহীত ।

08/02/2026

পেঁপের বীজের উপকারীতা


ডায়েটিশিয়ান ও হেলথ কোচ বিধি চাওলার মতে, পেঁপের বীজে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন। এর পাশাপাশি এতে জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই বীজ শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।


ওজন কমাতে সহায়কঃ

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের ডায়েটে পেঁপের বীজ হতে পারে একটি ভাল সংযোজন। এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে বারবার কিছু খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ ফাইবারযুক্ত ডায়েট ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমাদের অন্ত্রে থাকা কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হজম ও হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে জড়িত। পেঁপের বীজে থাকা ‘কারপেইন’ নামের একটি উপাদান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অন্ত্রের কৃমি দূর করতে সাহায্য করে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফোলা ও হজমজনিত সমস্যা কমতে পারে।


কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে উপকারীঃ

হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য কোলেস্টেরলের ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি। পেঁপের বীজে থাকা ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং ভাল কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা ওলেইক অ্যাসিডও হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।

অনেক মহিলাই ঋতুচক্রের সময় ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। পেঁপের বীজে থাকা ক্যারোটেনয়েডস ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটি পিরিয়ড ক্র্যাম্প কমাতেও সহায়ক হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।


ফুড পয়জনিং থেকে সুরক্ষাঃ

পেঁপের বীজে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। সে কারণেই ফুড পয়জনিং সংক্রান্ত সমস্যায় একে প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হওয়ায় এই বীজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। নিয়মিত কিন্তু পরিমিত মাত্রায় খেলে শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।


পেঁপের বীজ খাওয়ার সঠিক উপায়ঃ

পেঁপের বীজ খাওয়ার বেশ কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে। রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে স্যালাডের উপর ছড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে। দই বা সসের সঙ্গেও মেশানো যায়। কেউ কেউ হালকা ঝাঁঝালো স্বাদের কারণে গোলমরিচের বিকল্প হিসাবেও এটি ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে এক টেবিলচামচ পর্যন্ত পেঁপের বীজ খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে, তাই পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি।

-সংগৃহীত ।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...