ভুল ধারণা ১ । বয়স ৪০ হলেই নিয়মিত অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিতঃ
আমাদের অনেকের ধারণা, বয়স ৪০ বা ৫০ পার হলেই হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোক ঠেকাতে প্রতিদিন স্বল্প মাত্রার অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিত। এটি একটি ভুল ধারণা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের আগে কখনো হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবন উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। এটি শরীরে, বিশেষ করে পাকস্থলী বা মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ভুল ধারণা ২ । বুকে যেকোনো ব্যথা হলেই অ্যাসপিরিন মহৌষধঃ
এখানে আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, বুকে সামান্য অস্বস্তি বা ব্যথা হলেই দ্রুত অ্যাসপিরিন খেয়ে নেওয়া ভালো। বুকে ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়। গ্যাস্ট্রিকের আলসার বা ফুসফুসের জটিলতায়ও বুকে ব্যথা হতে পারে। এমন অবস্থায় না বুঝে অ্যাসপিরিন খেলে পাকস্থলীতে মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।
ভুল ধারণা ৩ । শিশুদের জন্য এটি নিরাপদ ব্যথানাশকঃ
আমাদের অনেকেই শিশুদের জ্বর বা ব্যথায় অনেক সময় বড়দের এই ওষুধ ভেঙে খাইয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ভাইরাসজনিত জ্বরের সময় শিশুদের অ্যাসপিরিন দিলে ‘রেইস সিনড্রোম’ নামের এক বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও লিভারের স্থায়ী ক্ষতি করে।
মুল কথা হলঃ অ্যাসপিরিন মূলত রক্ত পাতলা করে। যাঁদের একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তাঁদের জন্য এটি অপরিহার্য হতে পারে। কিন্তু একজন সুস্থ মানুষের এটি নিয়মিত সেবন করার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, ওষুধ যখন জীবন বাঁচায়, ভুল ব্যবহারে তা জীবন কেড়েও নিতে পারে। তাই রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যার কথা ভেবে নিজে নিজেই অ্যাসপিরিন শুরু করবেন না। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।