11/03/2023



‘ইউরিন বা প্রস্রাবে ইনফেকশন’- কথাটি ছোট হলেও নারী-পুরুষ ও ছোট-বড় সবাই কিন্তু সমানভাবেই এ জটিলতায় ভোগে আজকাল। কেননা আগে ধারণা করা হতো, এটি বোধ হয় শুধু মেয়েদের রোগ। প্রকৃতপক্ষে তা নয়, আজকাল বয়স্ক বা অল্পবয়স্ক ছেলেরাও এই ইউরিন ইনফেকশনে ভুগছে।


ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন বা ইউরিন ইনফেকশন (ইউটিআই) ইনফেকশন বা সংক্রমণ কখনো সব অঙ্গে একসঙ্গে বা আলাদাভাবে হতে পারে।


রোগটি এতই সাধারণ যে প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে একজন প্রস্রাবের প্রদাহে আক্রান্ত হন। বছরে প্রায় আট থেকে ১০ মিলিয়ন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।


ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণঃ-

♦ প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া

♦ প্রস্রাবে দুর্গন্ধ পাওয়া

♦ প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ ও লাল হওয়া

♦ অনিয়মিত প্রস্রাব বা শেষে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়া

♦ ঘন ঘন প্রস্রাব

♦ তলপেটে বা পিঠের নিচের দিকে ব্যথা

♦ সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব বা সন্ধ্যার পর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা

♦ বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

♦ কোমরে ব্যথা

♦ রাতে ঘুমের মধ্যেও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।


কারণঃ-

আপনি সারা দিনে যতটুকু খাবার ও পানি খান, কিডনি সেটা ছেঁকে মূত্রনালি দিয়ে মূত্র হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়।

♦ কম পানি পান করলে

♦ শরীরে ডিহাইড্রেশন থাকলে

♦ বেশি সময় ধরে প্রস্রাব আটকে রাখলে

♦ প্রস্রাব ও পায়খানার পর ভালোমতো পরিষ্কার না করার ফলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে

♦ টাইট বা আঁটসাঁট অন্তর্বাস পরলে

♦ খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার বা আঁশ না থাকলে

♦ পরিধেয় কাপড় ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে এই সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটে।


ইউরিন ইনফেকশন রোধে খাদ্য নির্বাচন করবেন কিভাবে? যেকোনো রোগে পথ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে দুটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে, তা হলোঃ—

♦ প্রতিরোধ

♦ প্রতিকার বা আরোগ্য লাভ করা।

সুতরাং ইউরিন ইনফেকশনের ক্ষেত্রে প্রথমেই দরকার প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করা। বেশি করে পানি, ফল, ফলের রস পান করুন। খাবার প্লেটে রাখুন পর্যাপ্ত আঁশজাতীয় খাবার, যা শরীরে পানি আটকে রাখতে সহায়তা করবে।

কখনোই বেশি সময় ধরে প্রস্রাব আটকে রাখবেন না। তা ছেলেই হোক বা মেয়ে। বিশেষ করে মেয়ে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে স্কুলের টাইমেও বাথরুমে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করুন। প্রয়োজনে স্কুলের শিক্ষকদের সহায়তায় বাচ্চাদের বাথরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করুন।

প্রস্রাবে ইনফেকশন প্রতিরোধে কিশোরীদের ক্ষেত্রে লজ্জা ভেঙে নিয়মিত ও সময়মতো ইউরিন পাস করার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যাঁদের ঘন ঘন প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁরা দৈনিক অন্তত তিন লিটার পানি পান করুন। এর মধ্যে অবশ্যই লেবুর পানি, ডাবের পানি বা গ্লুকোজ ওয়াটার রাখুন। বিশেষ করে প্রস্রাব হলুদ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পানি খাওয়ার পরিমাণ আরো বাড়াবেন।

প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার রাখুন। যেমন—লেবুর পানি, কমলা বা মাল্টার রস। কেননা ভিটামিন ‘সি’ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে মূত্রনালি ভালো রাখে এবং প্রস্রাবের জ্বালা ভাবও কমায়।

খাদ্যতালিকায় নিয়মিত রাখুন আনারস। এতে আছে ‘ব্রোমেলাইন’ নামের উপকারী এনজাইম, যা ইউটিআই থেকে প্রতিরোধ ও প্রতিকার দুটিই দেবে আপনাকে। কিন্তু গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আর যাঁদের ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা থাকে, তাঁরা হাই অক্সালিক এসিডসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলবেন। যেমন—কামরাঙা।

ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশন কিডনির সুস্থভাবে কাজ করার পরিপন্থী। তাই পর্যাপ্ত পানি খাবেন, সুস্থ থাকবেন।

-সংগৃহীত ।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...