03/11/2025

দাঁতের যত্নের অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস


অনেকেই পুরনো টুথব্রাশ মাসের পর মাস ব্যবহার করেন। আবার কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতই অন্যের টুথব্রাশ ব্যবহার করেন! এই সামান্য অবহেলাই ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো ভয়ংকর সমস্যা।

=> তবে টুথব্রাশই আপনার শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, টুথব্রাশ হলো শরীরকে সংক্রমণ ও রোগ থেকে রক্ষা করার প্রথম সারির রক্ষাকবচ। দাঁত মাজা শুধু মুখের দুর্গন্ধ বা দাগ দূর করে না—এটি মুখের জীবাণুকে এমন পর্যায়ে আটকে দেয়, যাতে তা হৃদয় বা রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে না পারে।

অর্থাৎ, টুথব্রাশ একরকম ‘প্রহরী’র মতো কাজ করে, যা মুখের সংক্রমণকে বড় রোগে রূপ নিতে বাধা দেয়।

মুখের ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু হয় বড় বিপদ ।

চিকিৎসকদের মতে, মানুষের মুখে থাকে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া। নিয়মিত দাঁত না মাজলে এসব ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে প্লাক তৈরি করে, যা মাড়ির প্রদাহের মূল কারণ। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, এই ব্যাকটেরিয়া ও প্রদাহজনক অণুগুলো রক্তপ্রবাহে ঢুকে গেলে তা হৃদয়, লিভার ও অগ্ন্যাশয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি করে।

ডায়াবেটিসের সঙ্গে মুখের স্বাস্থ্যের সম্পর্কঃ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে সহজে মাড়ির সংক্রমণ হয়। আর সেই সংক্রমণ ইনসুলিনের কার্যকারিতা নষ্ট করে, ফলে রক্তে শর্করা আরো বেড়ে যায়।

অর্থাৎ, খারাপ মুখের স্বাস্থ্য ডায়াবেটিসকে বাড়িয়ে দেয়, আর ডায়াবেটিস আবার মুখের সংক্রমণকে জটিল করে তোলে।

এটি এক বিপজ্জনক দুষ্টচক্র।

মাড়ির প্রদাহ বাড়ায় হৃদরোগের ঝুঁকিঃ

মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী ইনফ্লেমেশন শুধু রক্তপাত ঘটায় না, বরং ধমনীগুলোকেও শক্ত করে ফেলে। যাকে বলে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস।

জনস হপকিন্স মেডিসিন জানায়, এটি ধমনীর ভেতরে প্লাক জমে যাওয়ার ফলে হয়, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিকিৎসকরা বলেন, দীর্ঘদিন মুখের প্রদাহ চলতে থাকলে হৃদয়ের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়।

যাদের অনিয়ন্ত্রিত মাড়ির রোগ আছে, তাদের হার্ট ডিজিজের আশঙ্কা প্রায় দ্বিগুণ।

সুস্থ অভ্যাসে মিলবে সুরক্ষাঃ

  •  দিনে দুইবার দাঁত মাজুন।
  •  নিয়মিত ফ্লস করুন।
  •  সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
  •  বছরে অন্তত দুইবার ডেন্টাল চেকআপ করুন।

টুথব্রাশ কত ঘন ঘন বদলাবেনঃ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি তিন মাসে একবার টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। কারণ পুরনো টুথব্রাশে জীবাণু জমে যায়, আর এর ব্রিসল বা আঁশ বাঁকিয়ে যায়। ফলে তা দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক বা ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি তুলতে পারে না।

এ ছাড়া তামাক, অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাত খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত। কারণ এগুলো মাড়ি ও দাঁতের সবচেয়ে বড় শত্রু। ছোট্ট এক টুথব্রাশই পারে আপনার শরীরকে বড় বড় রোগ থেকে বাঁচাতে। তাই দাঁত মাজাকে অবহেলা নয়, প্রতিদিনের অভ্যাসে আনুন নিয়ম ও যত্ন।

-সংগৃহীত ।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...