13/01/2026

শীতে শিশুদের মালিশের জন্য কোন তেল বেশি উপকারী


নবজাতক শিশুদের স্বাস্থ্য ও হাড়ের জন্য ম্যাসাজ করা উপকারী বলে মনে করা হয়। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে ছোট বাচ্চাদের অসুস্থ হয়ে পড়ার একটা আশঙ্কা তৈরি হয়। তাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, শীতকালে নবজাতক ও ছোট শিশুদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগের প্রয়োজন হয়।শীতের সময়ে শিশুদের অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়, কারণ ঠাণ্ডা হাওয়া, ঠাণ্ডা মেঝে এবং সীমিত সূর্যালোক সহজেই তাদের ঠাণ্ডাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। 


আমাদের সংস্কৃতিতে শিশুদের প্রতিদিন তেল মালিশ করার রীতি রয়েছে। তবে, শুধু তেল মাখলেই যথেষ্ট নয়। সঠিক তেল, তাপমাত্রা ও সময় বিবেচনা করলেই একটি শিশু মালিশের সম্পূর্ণ উপকারিতা পেতে পারে।

জেনে নিন, শিশুদের মালিশের জন্য কোন তেলটি সবচেয়ে ভালো এবং কখন মালিশ করা উচিত।

 

বয়স অনুযায়ী সঠিক তেলঃ

প্রাপ্ত বয়স্কদের যেমন বিভিন্ন ধরনের ত্বক থাকে, তেমন সব শিশুর ত্বকও একরকম হয় না। নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের ত্বক অত্যন্ত নরম ও সংবেদনশীল হয়। তাই, ছোট শিশুদের জন্য নারকেল তেল বা বাদাম তেলকে সেরা বলে মনে করা হয়।

এই তেলগুলো খুব হালকা এবং ত্বক দ্রুত শোষণ করে নেয়।

তবে, শিশু যদি একটু বড় হয়, সে ক্ষেত্রে সরিষার তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। সরিষার তেল শরীরকে গরম রাখে। শুধু মনে রাখতে হবে, সরিষার তেল সব সময় হালকা গরম করে লাগাতে হবে।


ঠাণ্ডা তেল কেন এড়িয়ে চলবেনঃ

অনেকেই বোতল থেকে সরাসরি তেল নিয়ে শিশুকে মালিশ করা শুরু করেন। কিন্তু ঠাণ্ডা তেল ক্ষতিকর হতে পারে। ঠাণ্ডা তেল লাগালে শিশুর ঠাণ্ডা লাগতে পারে এবং সে অস্থির হয়ে পড়তে পারে। তাই, মালিশ করার আগে তেল হালকা গরম করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


মালিশের জন্য সঠিক সময়ঃ

শিশুকে তেল মালিশের জন্য সেরা সময় হলো সকাল বেলা। কারণ এই সময়ে তাদের শরীর বেশি সতেজ ও শিথিল থাকে। সকালে যদি সূর্য উঠে থাকে, তবে মালিশের উপকারিতা আরো বেশি হয়। সূর্য শরীরকে একটি হালকা উষ্ণতা দেয়, যা শিশুর ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকি কমায়।


আপনি যদি সকালে শিশুকে গোসল করানোর আগে মালিশ করেন, তবে তার পেশি শিথিল হয় এবং পুরো শরীরে আরাম অনুভব করে। তেলের মালিশ রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে, যা তার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।


সকালের মালিশের আরো একটি বড় সুবিধা হলো এটি আপনার শিশুকে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে। যখন শরীর শিথিল থাকে, তখন আপনার শিশু গভীর ঘুম ঘুমায় এবং ঘুম থেকে ওঠার পর সে আরো সুখী ও সক্রিয় থাকে। এই কারণেই চিকিৎসক ও গুরুজনরা শিশুকে সারা দিন সক্রিয় রাখতে সকালে মালিশ করার পরামর্শ দেন।


মালিশের পর ঠাণ্ডা থেকে রক্ষাঃ

মালিশের পর শিশুদের ত্বক উন্মুক্ত থাকে, যার ফলে তাদের ঠাণ্ডা লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই, মালিশের পরপরই আপনার শিশুকে গরম জামাকাপড় পরানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শিশুকে গোসল করানোর প্রয়োজন হয়, তবে মালিশের পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন, যাতে তেল ত্বকে শোষিত হতে পারে এবং আপনার শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করা যায়।


মালিশ শিশুকে সুস্থ রাখেঃ

সঠিক তেল, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে মালিশ শিশুর জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। এটি কেবল আপনার শিশুর শরীরকেই শক্তিশালী করে না, বরং তার ঘুম, হজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও উন্নত করে। এই কারণেই শীতকালে শিশুদের প্রতিদিন মালিশ করা উচিত।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...