চিকিৎসকেরা লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ স্বেচ্ছায় লবণ খাওয়া বাদ দেন। লবণ কম খাওয়া ভালো। তবে, একেবারে লবণ না খেলে বিপদ হতে পারে। ভারতের মেডিসিনের চিকিৎসক প্রভাতরঞ্জন সিংহ ইচ্ছামতো লবণ খাওয়া কমিয়ে ফেলার বিপদ সম্পর্কে জানান। তিনি মনে করেন, শরীরে সোডিয়াম বা লবণের কোনো ভূমিকা নেই এমনটা ভাবা ভুল। বরং দীর্ঘ সময় ধরে লবণের মাত্রা অনেকটা কমিয়ে দিলে হিতে বিপরীতও হতে পারে।
শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষায় লবণ বা সোডিয়ামের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও লবণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। স্নায়ুর কাজ থেকে মাংসপেশির সক্রিয়তা বজায় রাখতেও সোডিয়ামের প্রয়োজন। লবণের মাত্রা কমলে শরীরে ইলকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই লবণকে শুধু খাবারে স্বাদ বৃদ্ধির উপকরণ হিসেবে ভাবা ভুল ।
দীর্ঘ সময় ধরে কম লবণযুক্ত খাবার খেলে শরীরে যেসব প্রভাব পড়তে পারে ।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া লবণ খাওয়া অনেকটা কমিয়ে দিলে রক্তের ঘনত্ব কম-বেশি হতে পারে, রক্তচাপ হঠাৎ নেমে যেতে পারে, এমনকি কিডনির উপরেও চাপ বাড়তে পারে। রক্তচাপ, শরীরের তরল নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরনের মতো হরমোনের মাত্রার উপরেও প্রভাব ফেলে লবণের ঘাটতি।
শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা মারাত্মক কমে গেলে হাইপোন্যাট্রেমিয়াও হতে পারে। এমনটা হলে দুর্বল বোধ হবে, মস্তিষ্ক ঠিক ভাবে কাজ করতে পারবে না।
লবণ খাওয়ার মাত্রা একেবারে অনেকটা কমিয়ে ফেললে ক্লান্তি ও দুর্বলতা ঘিরে ধরতে পারে। কারণ, স্নায়বিক বার্তা প্রেরণের ক্ষেত্রেও সোডিয়ামের ভূমিকা থাকে। ফলে খনিজের অভাব ঘটলে, মস্তিষ্কেও তার প্রভাব পড়বে। রক্তচাপ হঠাৎ কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের অভাব ঘটতে পারে। ফলে শরীর স্বাভাবিক দৈহিক কাজকর্ম করতে পারে না। ফলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া শরীরে পানি ও খনিজের মাত্রার তারতম্য হলে পেশিতে টান ধরতেও পারে।
কিডনি রোগীদের লবণ কম খেতে বলা হয়। তবে সোডিয়ামের মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেলে কিডনির পক্ষেও কাজ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।
তাহলে কী করবেন?
বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। তবে স্বল্প মাত্রায় হলেও সোডিয়াম জরুরি। অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এড়াতে প্রক্রিয়াজাত, প্যাকেটজাত নোনতা খাবার বাদ দিন। খাবার খাওয়ার সময় কাঁচা লবণ খাবেন না। হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে লবণের মাত্রা কমাতে বা বাড়াতে হবে।
-সংগৃহীত ।