যে কোনও রোগ শনাক্ত করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। শরীরে রোগ বাসা বাঁধার সঙ্গে সঙ্গে তার লক্ষণ বিভিন্ন অঙ্গে প্রকাশ পেতে শুরু করে। বিশেষ করে পায়ের স্বাস্থ্য অনেক সময় পুরো শরীরের শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। পায়ের ছোটখাটো উপসর্গও যদি উপেক্ষা করা হয়, তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।
পায়ের মাধ্যমে শরীরের শারীরিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিচের লক্ষণগুলোকে অগ্রাহ্য করা বিপজ্জনক হতে পারে।
পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে ফোলা সাধারণভাবে ‘ফ্লুইড রিটেনশন’ নামে পরিচিত। এটি হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের অভাবের কারণে ও পায়ে ফোলা দেখা দিতে পারে। ফোলাভাব কমাতে পা কিছুক্ষণ উঁচু করে রাখা, খাবারে নুনের পরিমাণ কমানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী।
পা বা গোড়ালিতে ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এটি আঘাত, আর্থ্রাইটিস, স্নায়ু সমস্যা বা স্ট্রেস ফ্র্যাকচার ও অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণ হতে পারে। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পেশীতে টান ও জয়েন্টে ব্যথার কারণ হতে পারে। এছাড়া অপর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহও পায়ে ব্যথার অন্যতম কারণ।
পায়ের অসাড়তা বা ঝিনঝিন হওয়া স্নায়ুর ক্ষতি বা ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’-র ইঙ্গিত দেয়। ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, কেমোথেরাপি বা ভিটামিন বি-১২ ও ভিটামিন ই-এর অভাবও এ সমস্যার কারণ হতে পারে।
ঘন ঘন পায়ে খিঁচুনি হলে তা জলশূন্যতা বা ম্যাগনেশিয়ামের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য এই খনিজ পদার্থ অপরিহার্য। প্রচুর পানি পান, পুষ্টি ও খনিজ সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ এবং পা ম্যাসাজ ও হালকা স্ট্রেচিং করা উপকারী।
গোড়ালি ব্যথা বা প্লান্টার ফ্যাসাইটিস সাধারণ হলেও ক্রমাগত ব্যথা থাকলে তা গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। ভিটামিন ডি-এর অভাব, ভুল জুতা, অতিরিক্ত ওজন বা অতিরিক্ত পরিশ্রম গোড়ালি ব্যথার সম্ভাব্য কারণ।
ঠান্ডা পা শুধু শীতকালের সমস্যা নয়। এটি রক্ত সঞ্চালন দুর্বলতা, পুষ্টি অভাব, থাইরয়েড সমস্যা বা অনিয়মিত জীবনধারার কারণে হতে পারে। খাদ্যতালিকায় আয়রন ও থাইরয়েড সমৃদ্ধ খাবার রাখা এবং ইনসুলেটেড জুতা ও মোজা ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
গোড়ালির ত্বক ফাটা শুধু শুষ্ক ত্বকের কারণে নয়। ভিটামিন এ, জিঙ্ক ও ওমেগা-৩-এর অভাব, ডায়াবেটিস এবং একজিমা এই সমস্যাকে তীব্র করতে পারে। খালি পায়ে হাঁটা বা ভুল জুতা ব্যবহার এ সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত গোড়ালিতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ও আরামদায়ক জুতা পরা সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে।
শরীরের সংকেতগুলোকে উপেক্ষা না করে সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও জীবনধারার পরিবর্তন গ্রহণ করলে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পায়ের প্রতি সচেতন থাকা মানে আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা।
-সংগৃহীত ।