নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের একটি তীব্র সংক্রমণ, যেখানে ফুসফুসের বায়ুথলি (alveoli) তরল বা পুঁজে ভরে যায়। এর ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া মারাত্মক হতে পারে।
কারণ (Etiology):
নিউমোনিয়া বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা হতে পারে-
১. ব্যাকটেরিয়া
👉 Streptococcus pneumoniae (সবচেয়ে সাধারণ)
👉 Haemophilus influeûae
👉 Staphylococcus aureus
২. ভাইরাস
👉 Influeûa virus
👉 RSV
👉 SARS-CoV-2 (COVID-19)
৩. ফাঙ্গাস:
Pneumocystis jirovecii (HIV বা ইমিউনো-কমপ্রোমাইজড রোগীতে)
সংক্রমণের পথ/ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি:
১. হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ানো ড্রপলেট
২. আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ
৩. কখনো কখনো মুখ ও নাকের জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করে
৪. ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি: ৫ বছরের নিচের শিশু এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক
৫. ডায়াবেটিস, COPD, হৃদরোগে আক্রান্ত
৬. ধূমপায়ী
৭. অপুষ্ট শিশু
লক্ষণ (Clinical Features):
👉 উচ্চ জ্বর ও কাঁপুনি
👉 কাশি (কফসহ বা কফ ছাড়া)
👉 বুকে ব্যথা
👉 শ্বাসকষ্ট
👉 দ্রুত শ্বাস নেওয়া
👉 শিশুদের ক্ষেত্রে: বুক দেবে যাওয়া, খাওয়া কমে যাওয়া
👉 গুরুতর লক্ষণ: ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া, অচেতনতা, অক্সিজেন কমে যাওয়া
ডায়াগনোসিস (Investigation):
👉 CBC, CRP
👉 Chest X-ray
👉 Sputum culture (প্রয়োজনে)
চিকিৎসা (Treatment):
১. ওষুধ:
👉 ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া: উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক
👉 ভাইরাল নিউমোনিয়া: সাপোর্টিভ কেয়ার, প্রয়োজনে অ্যান্টিভাইরাল
👉 ফাঙ্গাল নিউমোনিয়া: অ্যান্টিফাঙ্গাল
২. সহায়ক চিকিৎসা:
👉 অক্সিজেন থেরাপি
👉 পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ
👉 জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল
👉 গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি
জটিলতা (Complications):
১. শ্বাসকষ্ট
২. ফুসফুসে পুঁজ (Empyema)
৩. সেপসিস
৪. শ্বাসযন্ত্র বিকল হওয়া
প্রতিরোধ (Prevention):
১. ভ্যাকসিন: Pneumococcal vaccine, Influeûa vaccine
২. ধূমপান পরিহার
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
৪. পুষ্টিকর খাবার
বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর একটি বড় কারণ নিউমোনিয়া। ডঐঙ ও ঊচও কর্মসূচির আওতায় নিউমোনিয়া
প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
👉 নিউমোনিয়া একটি গুরুতর কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ। সময়মতো সঠিক
চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।