20/01/2026

নিউমোনিয়ার কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ


নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের একটি তীব্র সংক্রমণ, যেখানে ফুসফুসের বায়ুথলি (alveoli) তরল বা পুঁজে ভরে যায়। এর ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া মারাত্মক হতে পারে।

 

কারণ (Etiology):

নিউমোনিয়া বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা হতে পারে-

১. ব্যাকটেরিয়া

👉 Streptococcus pneumoniae (সবচেয়ে সাধারণ)

👉 Haemophilus influeûae

👉 Staphylococcus aureus


২. ভাইরাস

👉 Influeûa virus

👉 RSV

👉 SARS-CoV-2 (COVID-19)


৩. ফাঙ্গাস:

Pneumocystis jirovecii (HIV বা ইমিউনো-কমপ্রোমাইজড রোগীতে)


সংক্রমণের পথ/ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি:

১. হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ানো ড্রপলেট

২. আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ

৩. কখনো কখনো মুখ ও নাকের জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করে

৪. ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি: ৫ বছরের নিচের শিশু এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক

৫. ডায়াবেটিস, COPD, হৃদরোগে আক্রান্ত

৬. ধূমপায়ী

৭. অপুষ্ট শিশু

 

লক্ষণ (Clinical Features):

👉 উচ্চ জ্বর ও কাঁপুনি

👉 কাশি (কফসহ বা কফ ছাড়া)

👉 বুকে ব্যথা

👉 শ্বাসকষ্ট

👉 দ্রুত শ্বাস নেওয়া

👉 শিশুদের ক্ষেত্রে: বুক দেবে যাওয়া, খাওয়া কমে যাওয়া

👉 গুরুতর লক্ষণ: ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া, অচেতনতা, অক্সিজেন কমে যাওয়া

 

ডায়াগনোসিস (Investigation):

👉 CBC, CRP

👉 Chest X-ray

👉 Sputum culture (প্রয়োজনে)

 

চিকিৎসা (Treatment):

১. ওষুধ:

👉 ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া: উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক

👉  ভাইরাল নিউমোনিয়া: সাপোর্টিভ কেয়ার, প্রয়োজনে অ্যান্টিভাইরাল

👉  ফাঙ্গাল নিউমোনিয়া: অ্যান্টিফাঙ্গাল


২. সহায়ক চিকিৎসা:

👉 অক্সিজেন থেরাপি

👉 পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ

👉 জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল

👉 গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি


জটিলতা (Complications):

১. শ্বাসকষ্ট

২. ফুসফুসে পুঁজ (Empyema)

৩. সেপসিস

৪. শ্বাসযন্ত্র বিকল হওয়া


প্রতিরোধ (Prevention):

১. ভ্যাকসিন: Pneumococcal vaccine, Influeûa vaccine

২. ধূমপান পরিহার

৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

৪. পুষ্টিকর খাবার

বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর একটি বড় কারণ নিউমোনিয়া। ডঐঙ ও ঊচও কর্মসূচির আওতায় নিউমোনিয়া

প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


👉 নিউমোনিয়া একটি গুরুতর কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ। সময়মতো সঠিক

চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...