অনেকেই ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকেন, কিন্তু বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। সাধারণভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় নাক, মুখ, গলা বা শ্বাসনালীর কোনো অংশে বায়ু চলাচলে বাধা তৈরি হলেই এই শব্দ হয়। তবে অনেকেরই জানা নেই, নিয়মিত নাক ডাকার পেছনে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও একটি কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রচুর মানুষের শরীরেই ভিটামিন ডি-এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এই ভিটামিন শুধু হাড় মজবুত রাখার কাজই করে না, বরং পেশি, শ্বাসনালি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিটামিন ডি শরীরের বিভিন্ন পেশিকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে, যার মধ্যে গলা ও শ্বাসনালির পেশিও রয়েছে। যখন শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হয়, তখন ওই পেশিগুলো দুর্বল ও ঢিলে হয়ে যেতে পারে। ফলে ঘুমের সময় শ্বাসনালি আংশিকভাবে সংকুচিত হয়ে যায় এবং বাতাস চলাচলের সময় শব্দ তৈরি হয়, যা আমরা নাক ডাকা হিসেবে চিনি।
এর পাশাপাশি, ভিটামিন ডি কম থাকলে শরীরে প্রদাহ বা ভেতরের ফোলাভাব বাড়তে পারে। এই প্রভাব নাক ও গলার ভেতরেও পড়ে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয় এবং নাক ডাকার প্রবণতা বেড়ে যায়। শুধু নাক ডাকা নয়, এর সঙ্গে আরো কিছু উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে সারা দিন অকারণ ক্লান্তি লাগা, ঘুম ঠিকমতো না হওয়া, পেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা, বারবার সর্দি-কাশি হওয়া, এমনকি মন খারাপ বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এই ঘাটতি পূরণ করবেন কিভাবে
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকা শরীরের জন্য উপকারী। খাদ্যতালিকায় ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ ও মাশরুম রাখলেও উপকার মেলে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে।
যদি নিয়মিত নাক ডাকার সমস্যা থাকে, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় বা সকালে উঠে অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগে, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর অভ্যাস নয়, অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরের কোনো পুষ্টির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। ভিটামিন ডি-এর অভাব তার মধ্যে একটি সম্ভাব্য কারণ। তাই ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে শুধু বাহ্যিক কারণ নয়, শরীরের পুষ্টিগত দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।