22/01/2026

ঘাড়ের ব্যথার অন্যতম কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন


ঘাড়ব্যথা খুব পরিচিত একটি সমস্যা। কিন্তু অনেক সময় ঘাড়ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এমন এক সমস্যা সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথি। এটি একটি গুরুতর স্নায়ুজনিত রোগ। ঘাড়ের মেরুদণ্ডের মাঝে যে স্পাইনাল কর্ড থাকে, তার ওপর সৃষ্ট চাপের ফলে এ সমস্যা তৈরি হয়।

স্পাইনাল কর্ড বা স্নায়ুরজ্জু (স্পাইনাল কর্ড) আমাদের মস্তিষ্কের ও শরীরের অন্যান্য অংশের মধ্যে স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদানের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাহায্য করে থাকে। তাই এতে সমস্যা হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথির অনেক কারণ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ হলো—জন্মগতভাবে স্পাইনাল ক্যানাল সরু থাকা, কোনো কারণে ঘাড়ে আঘাত পাওয়া, ডিস্ক প্রলাপস, ঘাড়ের মেরুদণ্ডের ক্ষয়, অস্টিওফাইট ইত্যাদি।


লক্ষণঃ

🔷 হাত-পায়ের পেশিতে দুর্বলতা অনুভব করা।


🔷 হাতের সম্পূর্ণ কাজে সক্ষমতার অভাব।


🔷 ভারসাম্যহীনতা অনুভব করা।


🔷হাত বা পায়ে ঝিন ঝিন ভাব অনুভূত হওয়া।


🔷 ঘাড়ের ব্যথা বা ঘাড় শক্ত অনুভব করা।


🔷 গুরুতর ক্ষেত্রে মূত্র বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া।


🔷হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া।


চিকিৎসা পদ্ধতিঃ

চিকিৎসা রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত নির্দিষ্ট ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে পারলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্পাইনাল কর্ডের চাপ বেশি থাকলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়ে থাকে। সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথি একটি ধীরে ধীরে অগ্রসরমাণ রোগ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

প্রতিরোধে করণীয়ঃ

অনেক সময় দীর্ঘ সময় ভুল পজিশনে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের কারণে এ ধরনের সমস্যা বাড়ে। সঠিক পদ্ধতিতে ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে।

দীর্ঘ সময় ডিভাইস ব্যবহারের সময় ঘাড় সোজা রাখতে হবে। ঘাড়কে সুরক্ষিত রাখতে হবে আঘাত থেকে। উঁচু বালিশ পরিহার করুন। মাথায় বেশি পরিমাণ ওজন বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

-সংগৃহীত ।

21/01/2026

গুঁড়া দুধের ৬৭ ভাগই ভেজাল, শিশুস্বাস্থ্যে ঝুঁকি



নিজের মুদি দোকান থাকা সত্ত্বেও মিরপুরের বাসিন্দা খলিলুর রহমান তার একমাত্র কন্যাশিশুর জন্য ‘একটু উন্নত’ ডিপার্টমেন্ট-স্টোর থেকে খাদ্যদ্রব্য কিনে থাকেন। তিনি মনে করেন, দাম একটু বেশি হলেও ভালো ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর। একইভাবে একটু বেশি দামের ব্র্যান্ডের পণ্য কেনেন পরীবাগের বাসিন্দা সালেহা চৌধুরী। শুধু এ দু’জনই নন, প্রত্যেক বাবা-মা সন্তানের জন্য একটু নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার খোঁজেন। ভালো ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যকে নিরাপদ মনে করেন তারা। কিন্তু ‘ভালো ব্র্যান্ডের’ খাবারেও এখন ক্ষতিকর উপাদান মিলছে। যেসব পণ্য মানুষ চোখ বন্ধ করে বাচ্চাদের জন্য কিনছেন তাতেও ভেজাল উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে। বাচ্চাদের প্রিয় গুঁড়া দুধ তৈরি হচ্ছে ভেজাল ‘হয়ে পাউডার’ দিয়ে (এক ধরনের সাদা পাউডার)। সেসবে ‘দুগ্ধ উপাদান’ খুবই সামান্য। সম্প্রতি ল্যাব টেস্টে গোয়ালিনী নামের গুঁড়া দুধে মাত্র ১৭ শতাংশ দুগ্ধ উপাদান পাওয়া গেছে। বাকি অন্তত ৬৭ শতাংশ ভেজাল উপাদান।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, সস্তার ‘হয়ে পাউডার’ মিশিয়ে চকচকে মোড়কে বাজারে বিক্রি হচ্ছে বাহারি মিল্ক পাউডার। আদালতে প্রমাণ হওয়ার পরও আইনের ফোকর গলে সামান্য শাস্তিতেই পার পেয়ে যাচ্ছে জড়িতরা। ক্রেতাদের বোঝার উপায় নেই যে, গুঁড়া দুধের নামে তারা বাচ্চাদের ‘হয়ে পাউডার’ খাওয়াচ্ছেন। এরকম অনেক মানহীন শিশুখাদ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। ভেজাল খাদ্যের ব্যাপারে সরকারের তৎপরতা খুবই সামান্য।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্য সরকার নির্ধারিত মান নিশ্চিত না করেই বাজারজাত করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় আইন থাকলেও কার্যকরী হচ্ছে না। যারা এসব করে তারা সহজেই ফোকর গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক, বিক্রেতা কাউকে উল্লেখযোগ্য শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে ভেজাল খাদ্য তুলে দিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের মুখে। এমনকি আমদানি করা ‘উন্নত’ মানের পণ্যেও ভেজাল ধরা পড়ছে।


সম্প্রতি বেশ কিছু শিশুখাদ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়। বিদেশি পণ্যের আমদানিকারকদের শাস্তি দেওয়া হলেও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণহীন। ভেজাল প্রমাণিত হওয়ার পরও পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানের জন্য যে ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল দরকার, তা এ খাতে নেই। বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


গুঁড়া দুধে দুগ্ধ উপাদান ১৭ শতাংশঃ

কয়েক মাস আগে ‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’ গুঁড়া দুধের নমুনা সংগ্রহ করেছিল ডিএসসিসির খাদ্য পরিদর্শকরা। গোয়ালিনীর পণ্য রাসায়নিক ও ভৌত দুই পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হয়নি।


পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে, তাতে দুগ্ধ উপাদান আছে মাত্র ১৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। বাকি ৫৮.৯২ শতাংশ ভেজাল উপাদান। অন্যান্য উপাদানেও ভেজালের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৬৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভেজাল উপাদানে তৈরি হচ্ছে গোয়ালিনীর গুঁড়া দুধ।


গোয়ালিনী গুঁড়া দুধে দুগ্ধ চর্বির পরিমাণ থাকার কথা ছিল ৪২ শতাংশ বা তার কমবেশি। কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষায় এর পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৩৪ দশমিক ৪২ শতাংশ ভেজাল উপাদান। দুগ্ধ প্রোটিন কমপক্ষে ৩৪ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এখানে ভেজালের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।


গুঁড়া দুধ বলে বিক্রি হওয়া পণ্যটিতে দুগ্ধ উপাদানের পরিমাণ থাকার কথা ছিল অন্তত ৭৬ শতাংশ। অম্লতা থাকার কথা ছিল অনূর্ধ্ব ১৮ শতাংশ, গোয়ালিনীতে পাওয়া গেছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। লেডের নির্ধারিত মান শূন্য দশমিক ০২ থাকলেও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ৫ শতাংশ আর্দ্রতার জায়গায় পাওয়া গেছে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ।


প্যাকেটের গায়ে পুষ্টিগুণের তালিকা দেওয়া আছে। এসব পণ্য ল্যাবে পরীক্ষা করে তালিকার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি স্ট্যান্ডার্ড মানের সঙ্গেও উপাদানের অনেক ফারাক পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’ নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। গত ১০ ডিসেম্বর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি ওই আদেশ দেন। নিম্নমানের গুঁড়া দুধ সরবরাহের দায়ে এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল একই আদালত। পরে আদালতে হাজির হয়ে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি এবং তাদের ভেজাল পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গত ডিসেম্বর মাসে গোয়ালিনী গুঁড়া দুধের কিছু প্যাকেট ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


মামলার বাদী এবং প্রসিকিউটিং অফিসার মোহা. কামরুল হাসান বলেন, ‘দোষ স্বীকার করায় আদালত পণ্য ধ্বংসের আদেশ দেয়।’


এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। কোম্পানির অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি দেশের বাইরে গেছেন। তবে এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।


তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু গোয়ালিনীই নয়, আসলাম টি কোম্পানির ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, একই কোম্পানির পূর্ণ ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ, ডানো ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, ড্যানিশ ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, ইনস্ট্যান্ট ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার (নেসলে) ও স্টারশিপ গুঁড়া দুধ ল্যাব টেস্টে উত্তীর্ণ হয়নি। এসব গুঁড়া দুধের আমদানিকারকদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।


ভেজাল পণ্যের বিএসটিআই লোগোঃ 

বাজারজাত করা বেশ কয়েকটি গুঁড়া দুধের প্যাকেটে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লোগো এবং কিউআর কোড দেখা গেছে। অন্যান্য পণ্যেও এই লোগো পেয়েছেন খাদ্য পরিদর্শকরা। তারা বলছেন, পণ্যের নমুনা নির্ধারিত মান পূর্ণ করলেই বিএসটিআই লোগো ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী গুঁড়া দুধ, চকলেট, বিস্কুট বা শিশুখাদ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।


বিএসটিআই-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইনে বাধ্যবাধকতা থাকায় ভেজাল অনেক পণ্যের প্যাকেটের গায়ে নকল লোগো এবং কিউআর কোড দেওয়া থাকে।


বিএসটিআইয়ের সমন্বয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘মানহীন অনেক পণ্যে বিএসটিআইয়ের নকল লোগো দেওয়ার অভিযোগ আছে। বিষয়টি মাথায় রেখে লোগোর সঙ্গে এখন কিউআর কোড দিয়ে দেওয়া হয়। গ্রাহকরা কিউআর কোড স্ক্যান করলে ওই পণ্য নিবন্ধিত কি না, নিশ্চিত হতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘বিএসটিআই নিবন্ধিত কোনো পণ্যে ভেজাল প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হয়।’


মানহীন কিটক্যাট চকলেটঃ

পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আমদানি করা কিটক্যাট চকলেট অনেক শিশু-কিশোর, এমনকি বড়দেরও প্রিয়। কিন্তু এ চকলেটেই মান রক্ষা করা হচ্ছে না। ক্ষতিকর উপাদানসহ এ চকলেট ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ পণ্য শিশু-কিশোরদের না দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরালো করার তাগিদ দিয়েছেন।


সম্প্রতি, শিশু খাদ্যে ভেজাল সন্দেহে রাজধানীর ফকিরাপুলের আমানিয়া বেকারি অ্যান্ড সুইটস থেকে এক বক্স কিটক্যাট সংগ্রহ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২-এর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহা. কামরুল হাসান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নমুনা জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষার করে কিটক্যাট চকলেট মানসম্মত নয় বলে সনদ দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারদের নোটিস দেয় ডিএসসিসি। এরপর নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর ২৬, ৩৭, ৩৯ ও ৪০ ধারা লঙ্ঘনের জন্য ওই আইনের ৫৮ ধারায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে অভিযোগ করা হয়। গত বছর ৩ নভেম্বর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকার চকবাজারের সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মোজাম্মেল হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাছাড়া কোকোলা ওয়েফার নামক একটি শিশুখাদ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় পণ্যটি তুলে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিল আদালত।


শিশুস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিঃ 

এ নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ কার্যালয়ের উপপরিচালক (পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও গবেষণা) ডা. মো. আকতার ইমামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভেজাল পণ্যে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রেন ডেভেলপমেন্টে সমস্যা হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য সরকারের আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে।’


বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, ‘শিশু খাদ্য খুবই স্পর্শকাতর। এটার মান নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে থাকি। আমাদের ল্যাবে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই হাজার নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা আছে। ল্যাবের সক্ষমতা আরও বাড়াতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘যেসব পণ্যে সন্দেহ হয় বা অভিযোগ পাওয়া যায় সেসব পণ্যের ব্যাপারে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অনেক সময় ভালো ব্র্যান্ডের মোড়কেও ভেজাল পণ্য পাওয়া যায়।’ কারও গোপন কারখানা থাকলে, কোনো পণ্যে সন্দেহ হলে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

-সংগৃহীত ।

20/01/2026

নিউমোনিয়ার কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ


নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের একটি তীব্র সংক্রমণ, যেখানে ফুসফুসের বায়ুথলি (alveoli) তরল বা পুঁজে ভরে যায়। এর ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া মারাত্মক হতে পারে।

 

কারণ (Etiology):

নিউমোনিয়া বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা হতে পারে-

১. ব্যাকটেরিয়া

👉 Streptococcus pneumoniae (সবচেয়ে সাধারণ)

👉 Haemophilus influeûae

👉 Staphylococcus aureus


২. ভাইরাস

👉 Influeûa virus

👉 RSV

👉 SARS-CoV-2 (COVID-19)


৩. ফাঙ্গাস:

Pneumocystis jirovecii (HIV বা ইমিউনো-কমপ্রোমাইজড রোগীতে)


সংক্রমণের পথ/ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি:

১. হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ানো ড্রপলেট

২. আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ

৩. কখনো কখনো মুখ ও নাকের জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করে

৪. ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি: ৫ বছরের নিচের শিশু এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক

৫. ডায়াবেটিস, COPD, হৃদরোগে আক্রান্ত

৬. ধূমপায়ী

৭. অপুষ্ট শিশু

 

লক্ষণ (Clinical Features):

👉 উচ্চ জ্বর ও কাঁপুনি

👉 কাশি (কফসহ বা কফ ছাড়া)

👉 বুকে ব্যথা

👉 শ্বাসকষ্ট

👉 দ্রুত শ্বাস নেওয়া

👉 শিশুদের ক্ষেত্রে: বুক দেবে যাওয়া, খাওয়া কমে যাওয়া

👉 গুরুতর লক্ষণ: ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া, অচেতনতা, অক্সিজেন কমে যাওয়া

 

ডায়াগনোসিস (Investigation):

👉 CBC, CRP

👉 Chest X-ray

👉 Sputum culture (প্রয়োজনে)

 

চিকিৎসা (Treatment):

১. ওষুধ:

👉 ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া: উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক

👉  ভাইরাল নিউমোনিয়া: সাপোর্টিভ কেয়ার, প্রয়োজনে অ্যান্টিভাইরাল

👉  ফাঙ্গাল নিউমোনিয়া: অ্যান্টিফাঙ্গাল


২. সহায়ক চিকিৎসা:

👉 অক্সিজেন থেরাপি

👉 পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ

👉 জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল

👉 গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি


জটিলতা (Complications):

১. শ্বাসকষ্ট

২. ফুসফুসে পুঁজ (Empyema)

৩. সেপসিস

৪. শ্বাসযন্ত্র বিকল হওয়া


প্রতিরোধ (Prevention):

১. ভ্যাকসিন: Pneumococcal vaccine, Influeûa vaccine

২. ধূমপান পরিহার

৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

৪. পুষ্টিকর খাবার

বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর একটি বড় কারণ নিউমোনিয়া। ডঐঙ ও ঊচও কর্মসূচির আওতায় নিউমোনিয়া

প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


👉 নিউমোনিয়া একটি গুরুতর কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ। সময়মতো সঠিক

চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

19/01/2026

যেসব খাবার দুধের সঙ্গে খাওয়া যাবে না


দুধকে বলা হয় 'সুষম খাদ্য'। ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিনে ভরপুর এই পানীয় আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু অনেকেরই ঞযতো জানা নেই, ভুল খাবারের সঙ্গে দুধ পান করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান—উভয় শাস্ত্রই কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সঙ্গে দুধ মেশানোকে বিপজ্জনক মনে করা হয়। কারণ ভুল খাবারের সঙ্গে খেলে হজমের সমস্যা, ত্বকের রোগ এমনকি দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়া হতে পারে। 


দুধের সঙ্গে যেসব খাবার খাওয়া ঠিক নয়-


টক জাতীয় ফল

কমলালেবু, লেবু, আনারস বা আঙুরের মতো টক ফলের সঙ্গে দুধ খাওয়া ঠিক নয়। লেবুতে থাকা অ্যাসিড দুধকে শরীরের ভেতরেই দইয়ে পরিণত করে। এর ফলে পেটে ব্যথা, গ্যাস এবং বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। এমনকি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা পর দুধ পান করা উচিত।


মাছ ও মাংস

মাছ ও মাংসে প্রচুর প্রোটিন থাকে। আবার দুধেও প্রোটিন থাকে । এই দুই ধরণের প্রোটিন একসঙ্গে হজম করা শরীরের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। আয়ুর্বেদ মতে, এই সংমিশ্রণ থেকে ত্বকে সাদা ছোপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।


নোনতা খাবার ও চিপস

দুধের সঙ্গে অনেকের নোনতা বিস্কুট, চিপস বা পরোটা খাওয়ার অভ্যাস আছে। কিন্তু দুধে থাকা প্রোটিন লবণের সংস্পর্শে এলে হজমে সমস্যা হতে পারে। 


কলা 

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী দুধ এবং কলা একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। যদিও অনেকেই ব্যানানা শেক' খেতে পছন্দ করেন, তবে এই মিশ্রণ শরীরে ভারী ভাব তৈরি করে। সেই সঙ্গে সাইনাসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি খান, তাহলে এর সঙ্গে সামান্য এলাচ বা দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নেওয়া ভালো।


তরমুজ ও শশা

তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে এবং এটি দ্রুত হজম হয়। অন্যদিকে দুধ হজম হতে সময় লাগে। তরমুজ খেয়ে দুধ খেলে পেটে বিষক্রিয়া বা বমি ভাব হতে পারে। একইভাবে শশা এবং দুধের সংমিশ্রণও এড়িয়ে চলা উচিত।


কেন সতর্কতা জরুরি?

দুধ একটি জটিল খাদ্য উপাদান। এটি হজম করার জন্য পাকস্থলীকে বিশেষ এক ধরণের এনজাইম নিঃসরণ করতে হয়। যখন এর সঙ্গে বিপরীত ধর্মী  খাবার মেশানো হয় তখন পাকস্থলীতে প্রভাব পড়ে। এর ফলে শরীরে 'টক্সিন' তৈরি হয়, যা থেকে অ্যালার্জি বা চর্মরোগ হতে পারে।


দুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম

সবসময় হালকা গরম দুধ পান করুন। দুধ খাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা পরে অন্য কোনো ভারি খাবার এড়িয়ে চলুন। মধু বা গুড় মিশিয়ে দুধ খাওয়া যেতে পারে, তবে চিনি না খাওয়াই ভালো।

18/01/2026

শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের আগে জেনে নিন ১০ টি তথ্য


সবুজ পাহাড়, নীল জলের সমুদ্র আর প্রাচীন শহরের টানে প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশি দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেন। ২০২৫ সালে প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে গেছেন। 


🔷১👇

ঢাকা থেকে কলম্বো বিরতিহীন ফ্লাইটে সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, থাই এয়ারওয়েজ, ফিটস এয়ার, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়াসহ বেশ কিছু এয়ারলাইনস প্রতিদিন বিরতি দিয়ে ও বিরতিহীন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ভ্রমণের যত আগে টিকিট নিশ্চিত করবেন, তত সাশ্রয়ী দামে কিনতে পারবেন। বিরতিহীন যাত্রায় ইকোনমি ক্লাসে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।


🔷২👇

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ঘিরে আছে ভারত মহাসাগর। সাত দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু এলাকা আপনি ঘুরে দেখতে পাবেন। আপনার যাত্রা সমুদ্র অঞ্চল কলম্বো, গল থেকে পাহাড়ি অঞ্চল ক্যান্ডি, নুয়ারা এলিয়ার দিকে হতে পারে বা পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণ শেষে সমুদ্র উপকূলেও আসতে পারেন। তবে যা–ই করুন না কেন, আগে থেকেই হোটেল-রিসোর্ট–গাড়ি বুকিং করে যাওয়া উচিত।


🔷৩👇

শ্রীলঙ্কায় মোটরসাইকেল, স্কুটি ও টুকটুক (অটোরিকশা বা টেম্পোর মতো বাহন) ভাড়া পাওয়া যায়। অনেক পর্যটক নিজেদের মতো এসব বাহন ভাড়া করে চলাফেরা করেন। তবে এ জন্য আগে থেকেই পারমিট নিতে হবে। আপনার বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে ওয়েবসাইটে (www.srilankabikerent.com/) আবেদন করে পারমিট পেতে পারেন। পারমিটের জন্য ব্যয় হবে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। 


🔷৪👇

শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকদের নিজ নিজ দেশ থেকে আগাম ইটিএ (ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন) গ্রহণ বাধ্যতামূলক। দুভাবে ইটিএ সংগ্রহ করতে পারবেন। শ্রীলঙ্কা সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (eta.gov.lk/slvisa) আবেদন করে অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনের মাধ্যমে ভিসা আবেদন জমা দিয়ে অনুমতি নেওয়া যাবে। বাংলাদেশে ঢাকার গুলশান ২-এ শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন। 


🔷৫👇

নিজেই অনলাইনে ফরম পূরণ করে অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ইটিএ করা যায়। সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য প্রয়োজন হয় ২০ ডলার (সঙ্গে ট্যাক্স)। আপনি ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট করতে না পারলে ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য নিতে পারেন। এতে বাংলাদেশি মুদ্রায় চার্জসহ তিন হাজার টাকার মতো খরচ পড়বে। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে দেখানোর জন্য ইটিএর প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখতে হবে।


🔷৬👇

বাংলাদেশি টাকার চেয়ে শ্রীলঙ্কান রুপির মূল্যমান কম। ১ মার্কিন ডলার পেতে প্রায় ১২২ টাকা খরচ হয় আর ১ মার্কিন ডলারে পাওয়া যায় প্রায় ৩১০ শ্রীলঙ্কান রুপি। সর্বোচ্চ দর পেতে বিমানবন্দর থেকেই ডলার ভাঙিয়ে রুপি নিন।


🔷৭👇

শ্রীলঙ্কায় জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল। কোথাও কোথাও আধা লিটার পানি কিনতে আপনাকে গুনতে হতে পারে ৩০০ রুপি। খাবারদাবারের দামও চড়া। ১ হাজার ৫০০ রুপির নিচে এক বেলা খাবার খাওয়া আপনার জন্য কষ্টসাধ্যই হবে। এসব বিবেচনা মাথায় রেখে বাজেট পরিকল্পনা করুন। 


🔷৮👇

নুয়ারা এলিয়ার মতো পাহাড়ি অঞ্চলে তাপমাত্রা কম থাকে, গরম কাপড় নিতে ভুলবেন না। নুয়ারা এলিয়া থেকে এলা ট্রেনযাত্রার অভিজ্ঞতা নিতে ভুলবেন না।


🔷৯👇

চাকরিজীবী হলে যাত্রার আগে অবশ্যই আপনার প্রতিষ্ঠানের এনওসি (অনাপত্তি সনদ) সঙ্গে নিন। শ্রীলঙ্কায় প্রথমবার ভ্রমণ হলে ইমিগ্রেশনে আপনার সচ্ছলতার বিষয়টিও যাচাই করতে পারে। ট্রাভেল আইটিনারি আর কনফার্ম হোটেল বুকিং অবশ্যই প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখবেন। ইমিগ্রেশন আপনার হোটেল বুকিং দেখতে চাইবে। ডকুমেন্টস আর কথায় মিল না থাকলে আপনাকে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। 


🔷১০👇

পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করে নিতে ভুলবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের জন্য কোনো মানি এক্সচেঞ্জ সর্বোচ্চ ২০০ ডলার এনডোর্সমেন্ট করতে পারবেন। চাইলে আপনার ব্যাংক থেকেও এনডোর্স করিয়ে নিতে পারবেন। দেশ উল্লেখ না করে লম্বা সময়ের জন্য সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত এনডোর্স করিয়ে নিতে পারেন।

15/01/2026

শিশুকে ঘুমের সময় টুপি পরানো কি ঠিক


শীতকাল এলেই বাবা-মায়েদের চিন্তা বাড়ে। কারণ ছোট শিশুরা বলতে পারে না তাদের ঠান্ডা লাগছে কি না। এর ফলে বাবা-মায়েদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে। অনেকেরই প্রশ্ন ঘুমের সময় শিশুকে মোজা এবং টুপি পরানো কি ঠিক?

ভারতীয় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নিমিশা জানান, শিশুদের শরীর বড়দের থেকে আলাদা। শিশুদের শরীরে ব্রাউন ফ্যাট বেশি থাকায় স্বাভাবিকভাবেই শরীরের ভেতরে তাপ তৈরি করে। এছাড়া, শিশুদের মেটাবলিজমও দ্রুত হয়। তাই, রাতে শিশুর শরীর প্রায়শই একজন প্রাপ্তবয়স্কের শরীরের চেয়ে বেশি গরম থাকে। এই কারণে শিশুরা রাতে কম্বল সরিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ঘুমের সময় শিশুকে টুপি পরানো জরুরি নয়। বরং, এটি শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিশুর শরীরের তাপ তার মাথা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। যদি মাথা ঢাকা থাকে, তাহলে শরীরের তাপ বাইরে বের হতে পারবে না এবং শিশু অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও, ঘুমের সময় টুপি সরে গিয়ে শিশুর নাক এবং মুখ ঢেকে ফেলতে পারে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। 

ঘুমের সময় শিশুকে কি মোজা পরানো উচিত?

ডা. নিমিশা  জানান, যদি ঘর খুব ঠান্ডা হয়, তাহলে শিশুকে হালকা মোজা পরাতে পারেন। কিন্তু যদি ঘরে হিটার চলে বা ঘর আগে থেকেই গরম থাকে, তাহলে মোজা পরানোর কোনো প্রয়োজন নেই। ডাক্তার বলেন যে শিশুদের ঠান্ডা থেকে বাঁচানো জরুরি, কিন্তু তাদের অতিরিক্ত ঢেকে রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই, শিশুর ঘুমের সময় তাকে টুপি পরাবেন না এবং ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী তাকে মোজা পরান।

শীতে শিশুদের জন্য বিশেষ টিপস

ঘরের তাপমাত্রা ভারসাম্য রাখুন

শিশুর ঘর খুব বেশি ঠান্ডা বা খুব বেশি গরম হওয়া উচিত নয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রা ২২-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বলে মনে করা হয়। যদি হিটার ব্যবহার করেন, তাহলে সঠিক বায়ুচলাচলের দিকে খেয়াল রাখুন।

স্তরে স্তরে পোশাক পরান

শিশুকে খুব মোটা পোশাক পরানোর পরিবর্তে, হালকা কাপড়ের ২-৩টি স্তর পরান। এতে আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই স্তরগুলো সরাতে বা যোগ করতে পারবেন। 

শিশুর তাপমাত্রা সঠিকভাবে পরীক্ষা করুন

শিশুর ঠান্ডা লাগছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য, তার হাত ও পা নয়, বরং তার ঘাড়, পিঠ বা পেট স্পর্শ করে দেখুন। ঠান্ডা হাত ও পা স্বাভাবিক এবং এর মানে এই নয় যে আপনার শিশুর ঠান্ডা লাগছে।

ভারী কম্বল এড়িয়ে চলুন

ছোট শিশুদের জন্য খুব ভারী কম্বল ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে শ্বাস নিতে অসুবিধা বা অতিরিক্ত গরম হতে পারে।

মাথা এবং মুখ খোলা রাখুন

ঘুমের সময় শিশুর মাথা এবং মুখ সবসময় খোলা থাকা উচিত। এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। 

শুষ্ক বাতাস থেকে বাঁচান

হিটার ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস খুব শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, এতে শিশুর নাক এবং ত্বক শুষ্ক হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা বা ঘরে এক বাটি পানি রাখা উপকারী হতে পারে।

শিশুর ইঙ্গিতে মনোযোগ দিন

যদি শিশুর ঘাম হয়, সে অস্থির থাকে, বা বারবার কম্বল সরিয়ে দেয়, তাহলে বুঝতে হবে তার খুব গরম লাগছে। যদি তার ঠান্ডা লাগে, তাহলে সে গুটিয়ে যেতে পারে বা কাঁদতে পারে। এই সংকেতগুলো খেয়াল রাখুন। 

14/01/2026

নতুন ইনজেকশনে ফিরছে দৃষ্টিশক্তি


চোখের এক ধরনের বিরল রোগ হাইপোটোনি। এই রোগের চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। তারা নতুন এক ইনজেকশন আবিষ্কার করেছেন। সেটি প্রয়োগে প্রথমবারের মতো দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন এক রোগী।

জানা গেছে, ওই রোগীর নাম নিকি গাই। তিনি যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন, “আমি শুধু আঙুল গুনতে পারতাম, সবকিছুই খুব ঝাপসা দেখাত। (নতুন এই চিকিৎসা নেওয়ার পর) এখন আমি দেখতে পারছি।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের মুরফিল্ডস হাসপাতালে হাইপোটোনির চিকিৎসা করা হচ্ছে। মুরফিল্ডসের বিশেষজ্ঞরা স্বল্পমূল্যের, স্বচ্ছ ও পানি-ভিত্তিক হাইড্রোক্সিপ্রপাইল মিথাইলসেলুলোজ নামের একটি জেল তৈরি করেছেন। এটি চোখের মূল অংশে নিয়মিত ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করার পরই সাফল্য পান তারা। সাধারণত প্রতি তিন থেকে চার সপ্তাহ পরপর একটি করে ইনজেকশন দেওয়া হয়। ১০ মাসের কোর্স পূর্ণ করার পরই সুফল দেখতে পান রোগীরা।

হাইপোটোনি রোগের ফলে চোখের ভেতরের চাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, ফলে চোখ নিজেই ভেঙে বা বসে যেতে শুরু করে। ২০১৭ সালে ছেলের জন্মের পরপরই নিকির চোখের সমস্যা শুরু হয়। তখন তার ডান চোখে প্রচুর সিলিকন তেল দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, হাইপোটোনির কারণে চোখটি তার স্বাভাবিক আকৃতি হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু সিলিকন তেলের চিকিৎসায় তেমন কোনও উপকার পাননি। কয়েক বছর পর তার বাঁ চোখেও একই সমস্যা দেখা দেয়।

নিকির চিকিৎসক হ্যারি পেট্রুশকিন জানান, তারা সিদ্ধান্ত নেন—চোখের ভেতর এমন কিছু ভরাট করা, যার ভেতর দিয়ে দেখা সম্ভব।

তিনি বলেন, “যার মাত্র একটি চোখ কোনওরকম কাজ করছে, তার ওপর এমন একটি পরীক্ষামূলক চিকিৎসা প্রয়োগ করা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা এটিকেই সমাধান হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম, আর অবিশ্বাস্যভাবে এই চিকিৎসা কাজ করেছে।”

“যে মানুষটির বাস্তবিক অর্থেই দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর কথা ছিল… তিনি এখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। এটা অসাধারণ ব্যাপার,” যোগ করেন পেট্রুশকিন।

তিনি আরও বলেন, “এই চিকিৎসার মাধ্যমে হাজারো মানুষের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। 

তবে চোখের পেছনের কোষগুলো এখনও কার্যকর আছে কি না, তার ওপর এই চিকিৎসা অনেকাংশে নির্ভর করে বলে জানান পেট্রুশকিন।

আইনগতভাবে গাড়ি চালানোর জন্য যে দৃষ্টিশক্তি প্রয়োজন, তার থেকে নিকি এখন মাত্র এক লাইন পিছিয়ে রয়েছেন। তবে প্রায় দৃষ্টিহীন অবস্থা থেকে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে তার। আগে তাকে কাছের জিনিস দেখতে ম্যাগনিফাইং গ্লাস ব্যবহার করতে হতো এবং ঘরের ভেতর ও বাইরে চলাচল করতে হতো মূলত স্মৃতির ওপর ভর করে। এখন কোনও কিছুর সাহায্য ছাড়াই দৈনন্দিন সব কাজ সম্পাদন করতে পারছেন তিনি।

মুরফিল্ডস আই চ্যারিটির অর্থায়নে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৫ জন রোগীর ওপর এই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ জার্নাল অব অপথালমোলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আটজন রোগীর ফলাফল। তাতে দেখা যায়, আটজন রোগীর মধ্যে সাতজনই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

গবেষকেরা আশা করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন— কারা এই চিকিৎসা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারবেন।

-সংগৃহীত ।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...